চিরনিদ্রায় শায়িত আহমেদ রুবেল

রুবেলের লাশ তার বাড়িতে নেওয়া হলে বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও ভক্তরা তাকে শেষবারের মত দেখতে ভিড় করেন।

গাজীপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 8 Feb 2024, 03:43 PM
Updated : 8 Feb 2024, 03:43 PM

মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের আলোচিত অভিনেতা আহমেদ রুবেলকে গাজীপুর সিটি করপোরেশন কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরের পর রবেলের লাশ ঢাকা থেকে তার নিজ বাড়ি গাজীপুর শহরের উত্তর ছায়াবীথিতে নেওয়া হয়। এ সময় তাকে শেষবারের মত এক নজর দেখতে বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও ভক্তরা ভিড় করেন।

পরে জয়দেবপুর রাজবাড়ি মাঠে বিকেল ৫টায় তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেলসহ রুবেলের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন অংশ নেন।

শুক্রবার দেশের হলে হলে মুক্তি পাবে নুরুল আলম আতিকের নতুন সিনেমা 'পেয়ারার সুবাস'। তাতে অভিনয় করেছেন রুবেল। বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বসুন্ধরায় স্টার সিনেপ্লেক্সে ওই সিনেমার প্রিমিয়ার শোয়ে অংশ নিতে যান তিনি।

কিন্তু অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর আগেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে তাৎক্ষণিক স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয় নাই। চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পেয়ারার সুবাসের শুটিং শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালে। কাজ শুরুর পর দফায় দফায় বিরতি দিয়ে সেই শুটিং শেষ হয় কোভিড মহামারীর মধ্যে ২০২০ সালের শেষ দিকে। এরপর বাদবাকি কাজ সারতে লেগে যায় আরো তিন বছর। শেষ কাজ 'পেয়ারার সুবাস' নিয়ে দারুণ আশাবাদী ছিলেন রুবেল।

শুক্রবার মুক্তি পেতে চলা এই সিনেমাটির ট্রেইলার প্রকাশ হয়েছে মঙ্গলবার। সিনেমায় মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান, আর আহমেদ রুবেলের চরিত্রও গুরুত্বপূর্ণ। গত বছর ৪৫তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে 'পেয়ারার সুবাস' এর প্রিমিয়ার হয়।

আহমেদ রুবেল ৩ মে ১৯৬৮ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের রাজারামপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া আহমেদ রুবেল বেড়ে উঠেছেন ঢাকায়। তার বাবা অধ্যাপক আয়েশ উদ্দিন ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।

রুবেলের অভিনয়ের সঙ্গে সখ্যতা মঞ্চ দিয়ে। প্রয়াত সেলিম আল দীনের ঢাকা থিয়েটার থেকে তার অভিনয় যাত্রা। প্রথম নাটক গিয়াস উদ্দিন সেলিমের স্বপ্নযাত্রা।

Also Read: ‘সুবাস ছড়িয়ে’ ছাপ্পান্নতেই চলে গেলেন আহমেদ রুবেল

গাজীপুরের নাট্যকর্মী ও দৈনিক মুক্ত সংবাদের সাংবাদিক সৈয়দ মোকছেদুল আলম লিটন বলেন, “রুবেল আমাদের খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের একজন। সব সময় তার মঙ্গল চাইতাম। গুণী মানুষ হিসেবে সফল হোক তাই চাইতাম।

“সে আরও ভালো ভালো কাজ উপহার দেবে, সেটাই প্রত্যাশা ছিল; কিন্তু হলো না। একসঙ্গে থিয়েটার করেছি। সাংগঠনিক কার্যক্রম করেছি। বহু স্মৃতি তাকে নিয়ে।”