৪৭ বছর বন্দিদশার পর মুক্তি পেল কুমিরটি

১৯৭৭ সালে বাগেরহাটের খান জাহান আলীর মাজার থেকে দুটি কুমির এনে বাড়ির পুকুরে লালনপালন করেন খুরশিদ।

নোয়াখালী প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 17 Feb 2024, 05:53 PM
Updated : 17 Feb 2024, 05:53 PM

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ৪৭ বছর পর বন্দিদশা থেকে একটি কুমির উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার উপজেলার চরহাজারী গ্রামের একটি বাড়ির পুকুর থেকে বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও অপরাধ দমন ইউনিটের একটি দল কুমিরটি উদ্ধার করে। এ সময় ওই বাড়িতে উৎসুক লোকের ভিড় জমে।

বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণ কর্মকর্তা রথীন্দ্র কুমার বিশ্বাস জানান, ৫০ বছরেরও বেশি বয়সী কুমিরটির ওজন প্রায় ১০০ কেজি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে কুমিরটি চট্টগ্রামের ডুলাহাজরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্কে অবমুক্ত করা হবে।

তিনি জানান, চরহাজারী গ্রামের মো. খুরশিদ আলম ১৯৭৭ সালে বাগেরহাটের খান জাহান আলীর মাজার থেকে দুটি কুমির এনে নিজ বাড়ির পুকুরে লালনপালন করেন। এর মধ্যে পুরুষ কুমিরটি ২০ বছর আগে মারা যায়। এরপর থেকে নারী কুমিরটি সঙ্গীহীন অবস্থায় ছিল।

লোনা পানির কুমিরটি ‘সল্ট ওয়াটার কোকোডাইল’ প্রজাতির বলে জানান রথীন্দ্র কুমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, সুন্দরবন এবং দেশের উপকূলীয় এলাকা এ জাতীয় কুমিরের আবাসস্থল। তবে, তারা মিঠা পানিতেও থাকতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকের সুবাদে কুমিরটির খবর নজরে আসে বন্যপ্রাণী ও অপরাধ দমন ইউনিটের। বিষয়টি যে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ এর পরিপন্থি তা জানা ছিল না প্রয়াত খুরশিদ আলমের পরিবারের সদস্যদের কারো। খুরশিদ আলম ২০ বছর আগে মারা যান। তার তিন ছেলে কেউই বাড়িতে থাকেন না।

আইন জানার পর তারা স্বেচ্ছায় কুমিরটি হস্তান্তর করেতে রাজি হলে শনিবার উপকূলীয় বনবিভাগ নোয়াখালীর সহযোগিতায় বন্যপ্রাণী ও অপরাধ দমন ইউনিটের একটি দল কুমিরটি উদ্ধার করে।

সন্ধ্যায় জেলা সদরে উপকূলীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে রাখা হয় কুমিরটি। সেখান থেকে চট্টগ্রামের ডুলাহাজরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্কের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ সময় নোয়াখালীর উপকূলীয় বন কর্মকর্তা আবু ইউসুফ, বন্যপ্রণী পরিদর্শক নার্গিস সুলতানা উপস্থিত ছিলেন। 

চরহাজারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ জেড এম মহিউদ্দিন সোহাগ বলেন, “৪৭ বছর উপজেলার চরহাজারী গ্রামের একটি বাড়ির পুকুরে কুমির আছে বলে লোকজন জেনে আসছে। যার কারণে বাড়িটি ‘কুমিরওয়ালার’ বাড়ি হিসেবে এলাকায় পরিচিতি লাভ করে। জনশ্রুতি রয়েছে, অনেক মানুষ উদ্দেশ্য পূরণে মানত করে কুমিরকে খাবার দিতেন।”