প্রেমের বিয়ের পর বিচ্ছেদ, ৯ ঘণ্টার ব্যবধানে দুজনের মৃত্যু
নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলার দুটি গ্রাম থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে, তারপর পারিবারিক চাপে বিচ্ছেদ; বিচ্ছেদের ২৫ দিনের মাথায় দুজনেরই মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
তারা হলেন- নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়নের আটবাড়ি গ্রামের সুনো মিয়ার ছেলে সাকিব মিয়া (২৩) এবং একই ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের ফাগুয়া গ্রামের বাবুল মিয়ার মেয়ে মুক্তা আক্তার।
পুলিশ জানায়, সাকিব মিয়ার মরদেহ মঙ্গলবার ভোরে নিজ বাড়ি থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তার আগে সোমবার সন্ধ্যায় শ্রীপুরে বাবার ভাড়া বাসায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন মুক্তা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ জানায়, সাকিব পেশায় দিনমজুর ছিলেন। তার প্রথম স্ত্রী ও আড়াই বছরের একটি সন্তান রয়েছে। প্রথম স্ত্রী বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
সাকিব ও মুক্তা মামাত-ফুফাত ভাইবোন। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এর সূত্র ধরে প্রায় তিন মাস আগে পরিবারকে না জানিয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের পর সাকিব ও মুক্তার উপর চাপ আসে। দুই পরিবারের মধ্যে কলহ দেখা দেয়।
একপর্যায়ে পরিবারের চাপে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে মুক্তাকে তালাক দেন সাকিব। তারপর মুক্তা গাজীপুরের শ্রীপুরে তার বাবার কাছে চলে যান। মুক্তার বাবা শ্রীপুরে ভাড়া বাসায় থেকে চাকরি করেন। সোমবার সন্ধ্যায় মুক্তা শ্রীপুরে বাসায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন।
মোহনগঞ্জ থানার ওসি হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, “মুক্তা শ্রীপুরে তার বাবার কাছে ছিলেন। সোমবার সেখানে তার মৃত্যু হয়। তার বাবা ঝামেলার আশঙ্কায় শ্রীপুরের পুলিশকে না জানিয়ে দাফনের জন্য মরদেহ গ্রামের বাড়ি ফাগুয়ায় নিয়ে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।”
অন্যদিকে মঙ্গলবার সকালে আটবাড়ি গ্রামের ঘরের বারান্দা থেকে সাকিবের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয় জানিয়ে ওসি বলেন, “দুজনের মরদেহ একই সময়ে থানায় আনা হয়। পরে দুটি অ্যাম্বুলেন্সে করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোণা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
“মুক্তার মৃত্যুর বিষয়টি শ্রীপুর থানা পুলিশকে জানানো হবে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় আপাতত অপমৃত্যুর মামলা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”
এ বিষয়ে গাগলাজুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কাজী লুৎফর রহমান বলেন, সাকিব দিনমজুর ছিলেন। কখনো মাছ ধরতেন, কখনো কৃষিকাজ করতেন। তার স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। কিছুদিন আগে আরেকটি বিয়ে করেছিলেন। সম্প্রতি ওই স্ত্রীকে তালাকও দিয়েছেন।
“সোমবার মেয়েটি মারা গেছেন। মঙ্গলবার সাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বিয়ে ও বিচ্ছেদের সঙ্গে এই মৃত্যুর সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।”
মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন করা মোহনগঞ্জ থানার এসআই রবিউল আওয়াল বলেন, দুজনের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
