যৌনপল্লিতে খুন যুবকের লাশ লাগেজে ভরে আনা হয় বাসস্ট্যান্ডে

“টাকা নিয়ে বাক-বিতণ্ডার জেরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মিলনকে হত্যা করা হয়।”

ফরিদপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 31 Jan 2024, 11:50 AM
Updated : 31 Jan 2024, 11:50 AM

দৌলতদিয়ার যৌনপল্লিতে খুনের পর ইটভাটা শ্রমিক মিলন প্রামাণিকের লাশ লাগেজে ভরে ফরিদপুর বাস টার্মিনালে এনে ফেলে রাখা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার বাস টার্মিনাল থেকে সেই লাশ উদ্ধারের পর তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে কাজ শুরু করে পুলিশ।  

মঙ্গলবার সকালে পল্লির বাসিন্দা রোজিনা আক্তার কাজলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম।

তিনি বলেন, টাকা নিয়ে বাক-বিতণ্ডার জেরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মিলনকে হত্যা করা হয়। তার মরদেহটি কম্বল দিয়ে মুড়িয়ে একটি লাগেজে ভরে রিকশা ও মাহেন্দ্র পরিবহনে করে বাস টার্মিনালে নিয়ে আসেন রোজিনা। পরে এক ফাঁকে সুযোগ বুঝে সেই লাগেজ ফেলে রেখে পালিয়ে যান তিনি।  

নিহত মিলন প্রমাণিক (৩৯) পাবনা সদর উপজেলার নতুন গোহাইল বাড়ী এলাকার কাশেম প্রামাণিকের ছেলে। তিনি রাজবাড়ীর বিভিন্ন ইটভাটায় কাজ করতেন।

রোজিনা ১০-১২ বছর ধরে দৌলতদিয়ায় রয়েছেন। মঙ্গলবার ভোররাতে রাজধানীর কদমতলী থানার জুরাইন এলাকার একটি ভবনের ছয়তলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দৌলতদিয়া থানার এসআই সুজন বিশ্বাস।

Also Read: ফরিদপুর বাস টার্মিনালে লাগেজে মিলল অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ

পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে মিলন দৌলতদিয়ায় রোজিনার কাছে যান। আর পরদিন সকালে তিনি খুন হন। পরে রোজিনা সেই মরদেহ লাগেজে করে ৬০০ টাকা রিকশা ভাড়া দিয়ে প্রথমে গোয়ালন্দ বাজারে নিয়ে আসেন। সেখান থেকে মহেন্দ্র পরিবহনে করে বাস টার্মিনালে নিয়ে আসেন। পথে চালকরা ভারী লাগেজের ভেতর কী আছে রোজিনার কাছে জানতে চান। তখন রোজিনা তাদের বলেন, এসি ও লোহার জিনিসপত্র রয়েছে। 

রোজিনা বাস টার্মিনালে এসে বিকাশ পরিবহনের বাসের টিকিট কাটেন এবং লাগেজটি গাড়ির চালকের সহকারীর (হেলপার) সহায়তায় ভেতরে রাখেন। গাড়ি ছাড়তে কিছুটা বিলম্ব হলে কৌশলে নাস্তা করার কথা বলে রোজিনা পালিয়ে যান।

সংবাদ সম্মেলনে রোজিনা বলেন, “মিলনের কাছে আমি টাকা পাইতাম। এ নিয়ে ঝগড়া হয়। সে মারা যাবে ভাবতে পারিনি। রাগের মাথায় এটা হয়েছে।”

লাগেজ বহনকারী রিকশাচালক তালেব বেপারী বলেন, “লাগেজটি আমি রোজিনার ঘর থেকে মাথায় করে অর্ধেক পথ আনি; পরে আরেকজন সহায়তা করেন। রিকশায় দৌলতদিয়া বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যাই। পরে সেখান থেকে রোজিনা লাগেজ নিয়ে মাহেন্দ্র করে চলে যান।”

মাহেন্দ্রচালক গানু বেপারী বলেন, “বোরকা পরা নারী আমার মাহেন্দ্রতে দুইটি সিট নিয়ে বসেন। ৬০০ টাকা ভাড়া নেই। আমি ফরিদপুর বাস টার্মনালে নামিয়ে দেই।”