নাটোরে জমির বিরোধ থেকে খুনোখুনি, এখন ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে ফসল

মামলার আসামিরা দিয়েছেন গাঢাকা, আড়াইশ বিঘা জমির ফসল হচ্ছে নষ্ট।

তারিকুল হাসাননাটোর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 21 Jan 2023, 07:27 PM
Updated : 21 Jan 2023, 07:27 PM

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বেলাল উদ্দিন মণ্ডল হত্যাকাণ্ডের পর ভয়ে আসামিপক্ষের লোকজন গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে। ফসলের মাঠে সেচ, নিড়ানি বা কীটনাশক দেওয়ার কাজ হচ্ছে না। ফলে মাঠেই তাদের আড়াইশ বিঘা জমির ফসল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

আসামিপক্ষের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের অভিযোগ, তাদের পরিবারের কাউকে মাঠে যেতে দেওয়া হচ্ছে না, রাতের আঁধারে ক্ষেতে থাকা মেশিন ও যন্ত্রপাতির সঙ্গে ফসল চুরি হয়ে যাচ্ছে। 

তবে বাদীপক্ষ এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, আসামিপক্ষের লোকজনই তাদের জমি দখল করে রেখেছে।

এ ব্যাপারে বড়াইগ্রাম সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ আল রাজীব বলেন, “বেলাল হত্যাকাণ্ডের পর এরকম অভিযোগ আসামিপক্ষের লোকজন ফোনে করেছেন। আমরা মশিন্দা গ্রামে গিয়ে উনাদের পরিবারের সদস্যদের বলেছি, আপনারা জমিতে আসেন, চাষাবাদ করেন। উনাদের সঙ্গে মিটিংও করেছি।

“উনাদের বলি, আপনারা লিখিত অভিযোগ দেন, উনারা দেয় না। অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নিব।“

উপজেলার নগর ইউনিয়নের মশিন্দা গ্রামে গত ১৩ ডিসেম্বর জমি সংক্রান্ত বিরোধে খুন হন বেলাল উদ্দিন মণ্ডল। তিনি গ্রামের পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা।

নিহতের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে আব্দুল খালেককে প্রধান আসামি করে ২৭ জনের নামসহ অজ্ঞাত ১৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় পুলিশ এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ জামিনে বেরিয়ে এসে গ্রামছাড়া হয়েছেন।     

বুধবার দুপুরে মশিন্দা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার পাশের বেশ কিছু জমির ভুট্টা, রসুন, সরিষা, গম, মসুর, ধান, টমোটো গাছ সেচের অভাবে হলুদাভ হয়ে গেছে। কিছু জমির ফসল সদ্য কেটে নেওয়া হয়েছে বোঝা যায়।

আবার কিছু জমি চাষাবাদের জন্য তৈরি করে রাখা হলেও বীজ বপন করা হয়নি। সেই জমি শুকিয়ে গেছে। কিছু জমিতে বীজ বপন করা হলেও যত্নের অভাবে তার আর বড় হয়নি।

মাঠে কাজ করা একজন সাধারণ কৃষক (৪০) বলেন, “এ নিয়ে আমরা কিছু বললে আমাদের সমস্যা হবে। সেচ না দেওয়ার কারণে, যত্ন না নেওয়ার কারণে ফসলগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ওই যে দেখেন, সব হলুদ হয়ে গেছে, ওগুলো আর হবে না।”

আরেকজন কৃষক (৪৫) বলেন, “ওরা (আসামি পক্ষের লোকজন) তো মাঠে আসতে পারে না, সেচ দেবে কিভাবে, চাষাবাদ করবে কিভাবে। তাই ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আসামিপক্ষের লোকজন ও তাদের আত্মীয়-স্বজনের অনেক জমি আছে এই মাঠে কিন্তু তারা কোথাও কোনো চাষ করতে পারছে না।“        

বেলাল উদ্দিন হত্যা মামলায় জামিনে ছাড়া পাওয়া এক আসামি বলেন, “মশিন্দা মৌজায় দুই হাজার ৩০০ বিঘা ফসলি জমি আছে। এর মধ্যে ২৫০ থেকে ৩০০ বিঘা জমি আমাদের আত্মীয়-স্বজনের। এসব জমিতে ধান, গম, সরিষা, মসুর, রসুন, ভুট্রা, লাউ, সিম, টমোটোসহ অন্যান্য ফসলের চাষ হয়েছে।”

“কিন্তু বাদী পক্ষের লোকেরা জমিতে সেচ দিতে দিচ্ছে না। মাঠে যেতে দিচ্ছে না। রাতের অন্ধকারের সেচ পাম্পগুলো খুলে নিয়ে গেছে। উঠতি ফসল কেটে নিয়ে যাচ্ছে। চাষাবাদ না করতে দেওয়ায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ফসল। মার্ডারের পর থেকে হামলা-মামলার ভয় দেখিয়ে সবচেয়ে বড় ক্ষতি করা হচ্ছে কৃষির।”

জমিগুলো ঘুরে দেখতে দেখতেই মাঠে চলে আসেন নিহত বেলাল মণ্ডলের কয়েকজন আত্মীয়। তারা কেন আসামি পক্ষের জমি দেখিয়ে দিচ্ছে তার জন্য একজন সাধারণ কৃষককে ধমকায়। পরে সাংবাদিক পরিচয় দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

মাঠ থেকে বেরিয়ে মশিন্দা গ্রামের পূর্বপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, দুপুরেও অনেক বাড়ি ফাঁকা, কোলাহলহীন। বেলাল মণ্ডল হত্যা মামলার আসামি এমন সাতজনের বাড়িতে কোনো সদস্যকে পাওয়া যায়নি। অনেক পরিবারে পুরুষ সদস্য নেই, তবে নারী ও শিশুরা আছেন।  

শিশুদের উঠানে ও আশপাশের খোলা জায়গায় খেলাধুলা করতে দেখা গেছে। তবে নারীদের চোখে-মুখে দেখা গেছে আতঙ্কের ছাপ। দুটি ঘর ভাঙচুর করা, টিনের বেড়া কোপানোর দাগ দেখা যায়। আসামিদের অধিকাংশই পূর্বপাড়ার বাসিন্দা।

গ্রামের মো. আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. রাহাত আলীর বাড়ি ভাঙচুর করা অবস্থায় পাওয়া যায়। বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্যকে দেখা যায়নি।

রাহাত আলীর স্ত্রী শিউলী বেগম বলেন, “আসামিরা আমাদের আত্মীয়, তাই আমাদের বাড়ি ভাঙচুর করেছে। আমাদের ছয় থেকে সাত বিঘা ফসলি জমিতে সেচ দিতে দিচ্ছে না। হামলা ও মামলার ভয়ে আমাদের আত্মীয়-স্বজনরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। সেই সুযোগে প্রতি রাতেই চুরি হচ্ছে।“

জিল্লুর রহমানের স্ত্রী শামীমা নাসরিন অভিযোগ করে বলেন, বেলাল হত্যা মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে, তাদের অনেকেই তাদের আত্মীয়। তবে আসামির তালিকায় তাদের পরিবারের কারও নাম নেই। হত্যাকাণ্ডের ১০ দিন পরে তাদের বাড়িতে লুটপাট হয়েছে।

“আমরা বাড়িতে ছিলাম না। বাড়ির দরজা ভেঙে টিভি, ফ্রিজ, ওয়াসিং মেশিন, কম্পিউটার, ফ্যান, ব্যাগ, পানির মোটর, নগদ টাকা, গহনা, দলিল-দস্তাবেজ, হাঁড়ি-পাতিল, লেপ-তোশক, কম্বল যা ছিলো সব নিয়ে গেছে।“

নগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও মশিন্দা গ্রামের বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম মোল্লা হত্যা মামলার আসামি। তিনি পলাতক আছেন। বাড়িতে তার স্ত্রী আনেসা বেগম থাকেন। তিনি বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করেছেন। 

হত্যা মামলার আসামি ফিরোজ মোল্লার স্ত্রী মিতা বেগম বলেন, “মামলায় আসামি করছে আইনিভাবে মোকাবিলা করব। কিন্তু মাঠে শ্রমিক পাঠাতে পারছি না, চাষাবাদ, সেচ বন্ধ করে দিছে, ফসল কেটে নিয়ে যাচ্ছে।”

“আমাদের আত্মীয়-স্বজনের ৩০০ বিঘা জমির ফসল মাঠে নষ্ট হচ্ছে। বাজারে দোকানপাট বন্ধ করে রাখছে, দোকান খুলতে দিচ্ছে না। রাতে লুটপাট করতে এসে জোরে জোরে বলে, কেউ বাইর হলেই ফালা (দেশীয় অস্ত্র) দিয়ে ফুঁড়বো।“

আসামি পক্ষের আত্মীয় মুক্তা পারভীন বলেন, “আসামি ও তাদের আত্মীয়-স্বজনদের ৩৯টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে।“

আবুল মোল্লার স্ত্রী নাসিমা বেগম বলেন, “আমার ছেলেদের আসামি বানিয়েছে। তারপরও কেন বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হবে, লুটপাট চালানো হবে। আমাদের আত্মীয়-স্বজন মিলে ৩০০ মানুষ গ্রাম থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে হামলার ভয়ে। আমরা শান্তি চাই, আমরা এই সমস্যার সমাধান চাই।“

আসামিদের অভিযোগ বানোয়াট, দাবি বাদী পক্ষের

গ্রাম থেকে বেরিয়ে দুপুরের পর মশিন্দা বাজারে গিয়ে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে আসামি ও তাদের কয়েকজন আত্মীয়-স্বজনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বাজারটি মশিন্দা গ্রামের পূর্বপাড়া সংলগ্ন; কেউ কেউ এই জায়গাটিকে ‘বাজারিপাড়া’ও বলে থাকেন। বাজারটিতে সব মিলিয়ে ৩০ থেকে ৩৫টি দোকান আছে।  

বাজারের কয়েকজন দোকানি জানান, তারা এ নিয়ে কথা বলতে আগ্রহী না। যারা দোকান বন্ধ রেখেছে তারা হয়তো গ্রেপ্তারের ভয়ে আসাতে চায় না। হামলার ভয়ও থাকতে পারে।  

বেলাল মণ্ডলের নিকটাত্মীয় মো. শহীদুল ইসলাম বাজারের সার-কীটনাশক ব্যবসা করেন। তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই তাদের জমি জবর-দখল করে ভোগ করছে আসামি পক্ষের লোকজন।

বাজারের পাশের ৩৬ বিঘা ফসলি জমি দেখিয়ে তিনি বলেন, এর ১৮ বিঘা জমিই আসামি পক্ষের লোকজন ২০-৩০ বছর ধরে ভোগ করছে। তারা সেখানে যেতে পারেন না।

কারা দখল করে রেখেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আহসানের ছেলে জলিল, আকুল, খলিল, সুলতান, মঞ্জু, খালেকসহ আট ছেলে এই জমি জবরদখল করে খায়। জমির ‘কাগজপত্র’ থাকা সত্ত্বেও আহসানের ছেলেরা তার বাবা জলিল শাহকে ব্যাপক মারধর করে এই জমি দখল করে নেয়। এ ঘটনায় একটি মামলা এখনও চলমান বলে জানান শহীদুল।

হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাদের কাগজপত্র দেখে বেলাল মণ্ডল আমাদের সমর্থন দেন। তখন আসামিরা তাকে সরে আসতে বলেন এবং বেলালের কেনা জমিও দখল করার হুমকি দেয়। এতে বেলাল মণ্ডল রাজি না হলে তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।“

আসামিদের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বলেন, “জমিতে আসতে না দেওয়া, সেচ বন্ধ করে দেওয়া, ফসল কেটে নেওয়া, পাম্প চুরি, চাষাবাদ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।”

তবে ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেননি ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “খুনের দিন এলাকার ছেলেপেলে রাগের মাথায় খালেক ও লিয়াকতের বাড়ি ভাঙচুর করে।”

বেলাল মণ্ডলের ছেলে আনিসুর রহমান বলেন, “আমার আব্বাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। ফালা দিয়ে আব্বার শরীরের ২০ থেকে ২৫ জায়গায় ফোঁড়া হয়। হ্যামার দিয়ে দুই পা গুড়িয়ে দেয়। হাতের আঙুল কেটে নিয়ে ভ্যানে তুলে নামিয়ে দফায় দফায় মেরে হত্যা করা হয়।

“আমাকে, মিঠুকে, কামরুল, আলাউদ্দিন ও রুহুলকে ফালা ও তীর মেরে গুরুতর আহত করা হয়। খুন করে এসে আব্বার তোলা ঘরে ভাঙচুর করে লুটপাট করা হয়। বাজারে শহীদুলের বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর করে তীর ছোড়া হয়। সেই তীর পুলিশের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।”

“জমিতে আসতে না দেওয়া, সেচ বন্ধ করে দেওয়া, ফসল কেটে নেওয়া, পাম্প চুরি, বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট, চাষাবাদ বন্ধ করে দেওয়া ও দোকানপাট খুলতে না দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।“

আনিসুরের স্ত্রী তানজীলা বেগম বলেন, “আসামিরা আমাদের ভাসানোর (বিপদে ফেলার) জন্য এসব অভিযোগ করছে। এগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমার শ্বশুরের হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচার চাই, ফাঁসি চাই।“

বেলাল মণ্ডলের স্ত্রী ও মামলার বাদী আনোয়ারা বেগম বলেন, “যেদিন খুন হয় সেদিন এলাকার লোকজন রাগের বসে পুলিশের উপস্থিতিতে আসামিদের দুইটা বাড়ি ভাঙচুর করে। এলাকায় চোর-বাটপার এলে সেই দায় তো আমাদের না।

“আমরা জমিতে গিয়ে চাষাবাদ করতে বলেছি, সেচ দিতে বলেছি। তাদের এসব অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন। আমরা আইনের আশ্রয়ে আছি। আমাদের বিরুদ্ধে সাজানো অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে।“

মশিন্দা গ্রামের নাসির উদ্দিন বলেন, “আসামিরা গরু, মহিষ, ধান, চাল, পাট ও বাড়ির অন্যান্য মালামাল বাড়ি থেকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে বাদীদের দোষ দিচ্ছে।“

ওই গ্রামের অনেক জায়গায় আসামিদের ছবিসহ পোস্টার বাঁশ দিয়ে টাঙিয়ে রাখতে দেখা যায়।

কাঁঠালবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মুক্তাদির হোসেন বলেন, “দ্বন্দ্ব-সংঘাত এ গ্রামে বাস করতে গেলে হয়, সমাধানও হয়। কিন্ত এভাবে ফসল নষ্ট হলে এই এলাকার সব বাদী-বিবাদী সবাইকে কষ্ট পোহাতে হবে। এই সমস্যার সমাধান হলে সবারই লাভ হবে।“

স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীরা ঠিকমতো আসছে কি-না জানতে চাইলে মশিন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, “অনেক ছাত্র-ছাত্রীই স্কুলে আসছে। যারা আসছে তাদের মধ্যেও একটা ভয় বিরাজ করছে। এসব বিষয়ে আমাদের বিস্তারিত বললে সমস্যায় পড়তে হবে। বাচ্চাদের পড়ালেখার উন্নয়নের জন্য এসব ভীতিজনক ঘটনার দ্রুত অবসান দরকার।“

জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্য

মশিন্দায় মাঠে ফসল নষ্ট হওয়ার বিষয়টি মঙ্গলবার জেনেছেন বলে জানান বড়াইগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সারমিন সুলতানা।

তিনি বলেন, “ওখানে আমাদের দুইটা ভুট্টার প্রদর্শনী আছে সেটাও নষ্ট হয়ে যাবে। আমি মশিন্দায় যাবো।“

নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, “বিষয়টা আমি এখনও জানি না। আমাদের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে জানাবো। কৃষি বিষয়ে যেকোনো সমস্যার সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা শামসুজ্জোহার বক্তব্য জানার জন্য মোবাইলে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

বড়াইগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারি বলেন, “মশিন্দায় আসামিদের বাড়িতে হামলা, লুটপাট, মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা লুটপাট চালানো, ফসলি জমিতে চাষাবাদ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা ন্যাক্কারজনক। শিশু ও মহিলারা কী দোষ করেছে যে, তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান ঘটনার জন্য নগর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান নিলুফার ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে ‘মদদ দেওয়ার’ অভিযোগ আনেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নিলুফার ইয়াসমিন বলেন, “মশিন্দায় প্রতিনিয়ত পুলিশ আসছে। উপজেলা চেয়ারম্যান তো একদিনও আসেননি। ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে উনি মিথ্যাচার করছেন। যা বানোয়াট, সাজানো ও ভিত্তিহীন।”

পুলিশ যা বলছে

মশিন্দা গ্রামের আসামিদের জমিতে চাষাবাদ বন্ধের ব্যাপারে জানতে চাইলে বড়াইগ্রাম থানার ওসি আবু সিদ্দিক বলেন, “আমরা তাদেরকে বারবার জমিতে গিয়ে চাষাবাদ করতে বলছি। উনার জমিতে না গিয়ে নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের বলে বেড়ায়। পুলিশের পক্ষ থেকে সব সময় জমিতে যেতে বলা হচ্ছে। আপনারাও বলেন।“

নাটোরের পুলিশ সুপার মো. সাইফুর রহমান বলেন, “আমাদের ওসি ও সার্কেল এসপি মশিন্দায় সবসময় নজরদারি করছেন। উনারা (আসামিরা) বিভিন্ন সময় বিভিন্নজনকে জানাচ্ছেন। তাদের কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। অভিযোগ পেলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।“

নাটোরের জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বলেন, “মশিন্দা গ্রামের খোঁজ-খবর নিয়ে নারী-শিশুদের নিরাপত্তা বিধানের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চাষাবাদ বন্ধ থাকলে সেটারও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মশিন্দা গ্রামে কোনো সমস্যা থাকলে সেগুলোর সমাধানে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।“

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক