মাদারীপুরে মসজিদ কমিটি নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ, বসতঘরে আগুন-লুটপাট
হামলায় কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের।
মাদারীপুর সদরে মসজিদ কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পাঁচটি ঘরে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি তিনটি বাড়ির অন্তত ৩০টি ঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, হামলায় কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগও তুলেছেন তারা।
বুধবার সকালে সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের বাহেরান্দী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম।
তিনি বলেন, খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়া পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা পক্ষপাতের অভিযোগ তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় তিন মাস আগে বাহেরান্দী জামে মসজিদের কমিটি গঠন করা হয়। এতে মোশারফ ফকিরকে সভাপতি করা হলে আপত্তি তোলেন স্থানীয় বাচ্চু মোড়ল।
পরে বাচ্চু নিজেকে সভাপতি দাবি করে বিরোধে জড়ান। এ নিয়ে বাচ্চু ও সাবেক ইউপি সদস্য এমদাদ মাতুব্বরের সমর্থকদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
এরই ধারাবাহিকতায় এদিন ভোরে শতাধিক লোকজন নিয়ে বাচ্চু মোড়লের কর্মী-সমর্থকেরা দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এমদাদ মাতুব্বরের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ।
এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। ফের সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ‘জুলাই যোদ্ধা’ তামিম মাতুব্বর অভিযোগ করে বলেন, “পুলিশ তাদের পক্ষ নিয়ে আমাদের বাড়িঘর থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। এরপর বাচ্চু মোড়লের লোকজন আমাদের বাড়িঘরে ঢুকে হামলা চালিয়েছে, লুটপাট করেছে এবং আগুন দিয়েছে।”
এ ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
