এক দশকেও বিচার হয়নি তিন সাঁওতাল হত্যার, ক্ষতিপূরণও পাননি ক্ষতিগ্রস্তরা
২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল হত্যার ঘটনা ঘটে।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে তিন সাঁওতাল হত্যার এক দশক পার হলেও মামলার বিচার শুরু হয়নি। গ্রেপ্তার হননি কোনো আসামি। হামলায় ঘরবাড়ি হারানো পরিবারগুলোও পায়নি ক্ষতিপূরণ।
শুক্রবার দুপুরে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জে ‘সাঁওতাল হত্যা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সমাবেশে এলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, ২০১৬ সালের ঘটনার পর সরকার নানা আশ্বাস দিলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি। হামলায় আহত অনেকে ঠিকমতো চিকিৎসা না পেয়ে পঙ্গু হয়ে গেছেন। কারও শরীরে এখনো গুলির স্প্লিন্টার রয়েছে। কাজ করতে না পেরে তারা কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কে। এতে বক্তব্য দেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ফারহা তানজীম, এলআরডির প্রোগ্রাম ম্যানেজার রফিক আহমেদ সিরাজী, আদিবাসী নেত্রী বিচিত্রা তিরকি, গোলাম রব্বানী মুসাসহ স্থানীয় আদিবাসী নেতারা।
ফিলিমন বাস্কে বলেন, সাঁওতাল-অধ্যুষিত এলাকায় জমি দখলের চেষ্টা এখনো চলছে। তিন সাঁওতাল হত্যার বিচার, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে সাঁওতালদের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে শুক্রবার সকালে জয়পুর গ্রামে অস্থায়ী শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে ও মোমবাতি জ্বালিয়ে নিহতদের স্মরণ করা হয়। পরে মাদারপুর ও জয়পুর গ্রাম থেকে কালো পতাকা, তীর-ধনুক, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে সাহেবগঞ্জের সমাবেশস্থলে গিয়ে শেষ হয়।
২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জে রংপুর চিনিকলের জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ৩০ জন সাঁওতাল আহত হন। আহতদের মধ্যে মঙ্গল মার্ডি, রমেশ টুডু ও শ্যামল হেমব্রম পরে মারা যান। এ সময় সাঁওতালদের ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।
