বিএনপির সমাবেশে খানাপিনা ভালোই হচ্ছে: ওবায়দুল কাদের

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন ওবায়দুল কাদের।

গাজীপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 19 Nov 2022, 05:19 PM
Updated : 19 Nov 2022, 05:19 PM

বিএনপির বিভাগীয় সামবেশগুলোতে খানাপিনা ভালো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

শনিবার দুপুরে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপি মনে হয় ভালোই আছে, তারা সম্মেলনের ডাক দিয়ে কাঁথা, বালিশ, হান্ডি, পাতিল নিয়ে ৭ দিন আগে থেকেই সমাবেশস্থলে চলে যাচ্ছেন। সেখানে তারা গরুর মাংস খাচ্ছে, মুরগির মাংস খাচ্ছে।

“সমসাময়িক সময়ে বিএনপির আন্দোলন রঙিন খোয়াবেই থাকবে,” মন্দব্য করে তিনি বলেন, তারা এখন বিদেশিদের কাছে নালিশ করে নালিশ পার্টি হিসেবে পরিচিত হয়েছে। বিএনপি জনগণ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে কাদের বলেন, তারা এখন দিনের আলোতে অমাবশ্যার অন্ধকার দেখে। চোখ তাদের খারাপ হয়ে গেছে। খালি বলে তাদের সম্মেলনে জনতার ঢল।

ঢল কাকে বলে তা তিনি গাজীপুরে দেখে যাওয়ার আহ্বান জানান।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির এখন বড় জ্বালা, মির্জা ফখরুলের মনে বড় জ্বালা, বিএনপির মনে বড় জ্বালা, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বুকে ব্যাথা। নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু হয়েই গেল, শেখ হাসিনা নিজের টাকায় পদ্মা সেতু করে ফেললেন। চট্টগ্রামে দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র টানেল বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত। প্রস্তুত ঢাকার তরুণ প্রজন্মেও ড্রিম প্রজেক্ট মেট্রোরেল। মহাসড়কে কত ফোর লেন এবং গাজীপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত সিক্স লেন উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত। কিছু দিন আগে প্রধানমন্ত্রী একদিনে একশ সেতু উদ্বোধন করেছেন।

“সারা বিশ্ব অবাক; সারা দেশ অবাক হয়েছে। একদিনে শেখ হাসিনার উন্নয়ন দেখে। এসবই বিএনপির এখন জ্বালা।”

মন্ত্রী বলেন, বিএনপি এখন দিনের আলোতে অমাবশ্যা দেখে, পূর্ণিমার রাতেও অমাবশ্যার অন্ধকার দেখে। তারা দেশের উন্নয়ন দেখে না। চোখ তাদের খারাপ হয়ে গেছে। খালি বলে তাদের সম্মেলনে জনতার ঢল।

তিনি বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “কী ঢল দেখছ; গাজীপুরে এসে দেখ। ঢল কাকে বলে তা তিনি গাজীপুরে দেখে যাও। সিলেটে তাদের এ ঢল নেই। সেখানে রয়েছে সুরমা নদীর ঢেউ। আর গাজীপুরে রয়েছে উত্তাল বঙ্গপোসাগরের ঢেউ আর ঢল।”

কাদের বলেন, তারা বলে শুধু জনতার ঢল; অথচ তাদের সিলেটে জনতার ঢেউ নেই; সেখানে আছে সুরমা নদীর ঢেউ। গাজীপুরের সম্মেলনে শুধু মহানগরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত আছেন, জেলা তো বাদই আছে, আর সিলেটে বিএনপি বিভাগীয় সমাবেশ হচ্ছে চারটি জেলা নিয়ে।

দুটি সমাবেশের তুলনা করে মন্ত্রী বলেন, সিলেটের বিএনপির সমাবেশের চাইতে গাজীপুরে পাঁচগুণ বেশি জনসমাগম হয়েছে। মাঠে জায়গা না পেয়ে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত মানুষ দাঁড়িয়ে এ অনুষ্ঠান শুনছেন।

“বিএনপি এখন বলে আমাদের নিরাপদে প্রস্থান করতে, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে। অথচ কোন মুখে তারা এমন কথা বলে, তারা তো আন্দোলন করতেই জানে না। তারা মুখে দেশনেত্রী বলে ফেনা তোলে, অথচ নেত্রীর জন্য একটি মিছিলও করতে পারে না।”

কাদের বলেন, দেখতে দেখতে ১৩ বছর, মানুষ বাঁচে ক’বছর। এখন খেলা হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে, লুটপাটের বিরুদ্ধে, হাওয়া ভবনের বিরুদ্ধে।

তাই খেলার জন্য আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত হতে বলেন তিনি।

বিএনপির দিক ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, তারা শেখ হাসিনাকেও সম্মান করতে জানে না। শেখ হাসিনাকে হাসিনা বলে ডাকে অথচ শেখ হাসিনা দয়া করে তাদের নেত্রীকে দণ্ডিত হওয়া সত্বেও বাড়িতে থাকতে দিয়েছেন।

“বিএনপি আবার আগুন সন্ত্রাস শুরু করেছে, তাই তাদের বিরুদ্ধে খেলা হবে; তাই তিনি নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত হওয়ার আহবান জানান।

তিনি বলেন, মোস্তাক ও জিয়াউর রহমান হলো ১৫ই অগাস্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যার মাস্টারমাইন্ড, তারা ৩রা নভেম্বরের হত্যার মাস্টারমাইন্ড – এরা বিশ্বাসঘাতক। জিয়ার ছেলে তারেক রহমান ২১ অগাস্ট বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে হত্যাচেষ্টার মাস্টারমাইন্ড। ইতিহাসে কোনো বিশ্বাসঘাতকের শেষ রক্ষা হয়নি।

সম্মেলন ঘিরে নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে গাজীপুর শহরের রাজবাড়ী মাঠ। দুপুরের আগেই কানায়কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে সমাবেশস্থল। মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হলেও এটি রূপ নেয় বিশাল জনসভায়।

সম্মেলন উপলক্ষে সকাল থেকে জেলা শহরের যানবাহন চলাচল সীমিত করা হয়। নেতাকর্মীরা প্রায় কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে মিছিল নিয়ে হেঁটে সভাস্থলে আসেন। বেলা ২টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মেলন শুরু হয়।

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক আতাউল্লাহ মন্ডলের সঞ্চালনায় সমাবেশে কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা বক্তব্য রাখেন।

সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে নেতৃত্ব বাছাই করা হয়। এ সময় সভাপতি পদে দুই জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ষোল জন নিজেদের প্রার্থিতা ঘোষণা দেন।

পরে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে আজমত উল্লাহ খান ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আতাউল্ল্যাহ মন্ডলের নাম ঘোষণা করেন ওবায়দুল কাদের।

২০১৫ সালে মহানগর আওয়ামী লীগের প্রথম কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। এর সাত বছর পর আনুষ্ঠানিকভাবে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক