আওয়ামী লীগকে রাজনীতির সুযোগ দিয়েছিলেন জিয়া: দুলু
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে লালমনিরহাটে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা বলেন ত্রাণমন্ত্রী।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে পুনরায় রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বলেন, “ক্ষমতায় এসে জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন এবং সব রাজনৈতিক দলের অধিকার নিশ্চিত করেন। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি বিলুপ্ত আওয়ামী লীগকেও পুনরায় রাজনীতির সুযোগ দেন।”
শনিবার দুপুরে লালমনিরহাটে জেলা বিএনপি আয়োজিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।
দুলু বলেন, “শেখ মুজিবুর রহমান বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা চালু করেছিলেন। এতে গণতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারই পরিণতিতে ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগের একটি গোষ্ঠী তাকে হত্যা করে।
“১৫ অগাস্টের পর খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগেরই একটি অংশ ক্ষমতায় বসেছিল এবং শেখ মুজিবের মন্ত্রিসভার ২১ জন সদস্য মোশতাকের মন্ত্রিসভায় শপথ নিয়েছিলেন।”
৭ নভেম্বরের পটভূমি তুলে ধরে বিএনপি নেতা বলেন, ১৫ অগাস্টের পর দেশে একের পর এক সেনা বিদ্রোহ ও অস্থিরতা দেখা দেয়। ৩ থেকে ৭ নভেম্বরের মধ্যে পরিস্থিতি চরম সংকটে পৌঁছালে জিয়াউর রহমানকে বন্দি করা হয়। পরবর্তীতে ‘দেশপ্রেমিক সিপাহী ও সাধারণ জনতা’ তাকে মুক্ত করেন।
চট্টগ্রামে জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বলেন, “চক্রান্তকারীরা ভেবেছিল জিয়াকে হত্যা করলেই বিএনপি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। কিন্তু তার জানাজায় লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করেছিল সাধারণ মানুষ তাকে কতটা ভালোবাসত।”
লালমনিরহাট জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মমিনুল হকের পরিচালনায় সভায় জেলা বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আবুল বাশার সুমন, লালমনিরহাট পৌর বিএনপির সভাপতি মো. আফজাল হোসেন এবং জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ভিপি আনিছুর রহমান আনিছ বক্তব্য দেন।
সভা শেষে জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের যৌথ উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিশন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
