ভবন ঘেঁষা বিদ্যুৎ লাইনে জানালা দিয়ে ছুঁয়ে দিল শিশু, অতপর...

চারতলার জানালার গ্রিল দিয়ে ভবনের পাশ দিয়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক তারে হাত রাখে শিশুটি।

কুমিল্লা প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 Feb 2024, 07:21 PM
Updated : 1 Feb 2024, 07:21 PM

কুমিল্লা নগরীতে ভবনের পাশ দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের তার স্পর্শ করে হাতের কব্জি হারিয়েছে এক শিশু; তার দুই পা পুড়ে গেছে। এ সময় আহত হয়েছেন শিশুর মা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর তেলিকোনা চৌমুহনী এলাকায় এ ঘটনার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটিকে রাজধানীর শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত সাত বছরের শিশু আব্দুল্লাহ কুমিল্লা নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরাইশ এলাকার বাসিন্দা ও চকবাজারের ব্যবসায়ী মো. শামীমের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে তেলিকোনা চৌমুহনী এলাকার মানিক মিয়া টাওয়ারে ভাড়ায় বসবাস করেন।

পরিবারের লোকজন জানায়, শামীম ওই ভবনের ছয়তলায় ভাড়া থাকতেন। এখন চারতলায় ভাড়া নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মালামাল ছয়তলা থেকে চারতলায় নামানো হচ্ছিল। এরই এক ফাঁকে আব্দুল্লাকে চারতলায় রেখে অন্যরা মালামাল সরানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। 

বেলা পৌনে ১২টার দিকে চারতলার জানালার গ্রিল দিয়ে ভবনের পাশ দিয়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক তারে হাত রাখে শিশুটি। সঙ্গে সঙ্গেই সে বিদ্যুতায়িত হয়। বিষয়টি টের পেয়ে মা তাকে জোরে টান দেন। এতে শিশুটির হাত থেকে কব্জি আলাদা হয়ে বিদ্যুতের তারে রয়ে যায়। মা-ও আহত হন।  

পরবর্তী সময়ে শিশুটির হাতের কব্জি বিদ্যুতের তারে দীর্ঘক্ষণ ঝুলে থাকতে দেখা যায়। সঞ্চালন লাইন বন্ধ করা হলে হাতটি উদ্ধার করা হয়। তবে তা অঙ্গার হয়ে গেছে।

আহত অবস্থায় আব্দুল্লাহকে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটের প্রধান মীর্জা মো. তাইয়েবুল ইসলাম বলেন, “শিশুটিকে যখন আমাদের এখানে নিয়ে আসা হয়, তার অবস্থা খুব একটা ভালো ছিলো না। এক হাত পুড়ে আলাদা হয়ে গেছে। দুই পা পুড়ে গেছে। আমরা জরুরি ভিত্তিতে যা করার করে দিয়েছি। চেয়েছিলাম অপারেশন করাতে। কিন্তু তার পরিবারের ইচ্ছায় ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।”

শিশুটির হাত জোড়া লাগানো সম্ভব কি-না জানতে চাইলে এই চিকিৎসক বলেন, “বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তার হাতটা পুড়ে একেবারে কয়লা হয়ে গেছে। পরে শরীর থেকে আলাদা হয়ে যায়। এটা আর জোড়া লাগানো সম্ভব না। শিশুটির দুই পা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছে। এটা মারাত্মক দুর্ঘটনা। শিশুটি অবস্থা সংকটাপন্ন।”

নগরীর চকবাজার আমিরদিঘীর পূর্ব পাড়ের বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “এটি মর্মান্তিক একটি ঘটনা। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি শিশুটির হাতের কব্জি বিদ্যুতের তারে ঝুলছে। এ দৃশ্য বর্ণনা করাও কষ্টকর।”

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভবনটির পাশের এই বিদ্যুতের তারে এর আগেও একজন দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলেন। এ ছাড়া ওই এলাকার বিভিন্ন ভবনের পাশে এরকম বিদ্যুতের তার রয়েছে। কিছুদিন আগে সংরাইশ এলাকায় এরকম একটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলেন এক নারী।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২) কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী পারভেজ আহমেদ বলেন, “আমি ঘটনাটি জেনেছি। বিষয়টি মর্মান্তিক। তবে এখানে বিদ্যুৎ বিভাগের কোনো অবহেলা নেই। বিদ্যুতের ওই লাইনটি অনেক আগের। মূলত ওই ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে বিদ্যুতের তার ঘেঁষে।

“আমরা ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনটি বন্ধ করে দিয়েছিলাম। পরে দুর্ঘটনার শিকার শিশুটির হাত বিদ্যুতের তার থেকে উদ্ধার করা হয়। এসব বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছি আমরা।”