২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

যৌন হয়রানির মামলা: টঙ্গীর সেই মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

পুলিশ জানায়, শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 25 Oct 2026, 05:52 PM

Updated : 25 Oct 2026, 05:52 PM

গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে যৌন নিপীড়নের মামলায় মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মোসলেম উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছে আদালত।

রোববার গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ওমর হায়দার তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক আহসানুল্লাহ চৌধুরী।

গ্রেপ্তার মোসলেম উদ্দিন (৩০) টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। ওই মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণিতে পড়ে শিশুটি।

পুলিশ জানায়, শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তার বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। বৃহস্পতিবার ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়। একই দিন আদালতে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

এদিকে অভিযোগের তদন্তে শনিবার মাদ্রাসাটি পরিদর্শন করে সিসিটিভির ভিডিওসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে পুলিশ।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক আহসানুল্লাহ চৌধুরী বলেন, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, ১৯ অক্টোবর মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে তাকে যৌন নিপীড়ন করেন শিক্ষক। এরপর শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না। পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে কিছু বলেনি। পরে মা-বাবার কাছে ঘটনা খুলে বলে।

এরপর বুধবার দুপুরে শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষকের কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চান। একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। এ সময় শিক্ষককে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

অন্যদিকে, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সেখানে হামলা, ভাঙচুর, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মারধর এবং ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মোবাইল ফোন লুট করা হয়েছে। এসব অভিযোগে শিশুটির বাবা ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আলাদা মামলা করা হয়েছে।

তবে শিশুটির বাবা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতেই তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন। হামলা বা লুটপাটের কোন উদ্দেশ্যে তার ছিল না। তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। পাশাপাশি মেয়ের প্রতি নিপীড়নের সুষ্ঠু বিচার চেয়েছেন।

শিক্ষককে মারধরের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। শিশুকে নিপীড়নের অভিযোগ এবং মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পাল্টা অভিযোগের তদন্ত করছে পুলিশ।

পুরনো খবর:

যৌন হয়রানির মামলা: টঙ্গীর সেই মাদ্রাসা ছাত্রীর আদালতে জবানবন্দি, উপাধ্যক্ষ কারাগারে