আতঙ্কে রাতে আত্মীয়দের বাড়ি থাকেন মানিক পশারীর মেয়ে-বোন
শিমু বলেন, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাদের ঘরে আগুন দেওয়া হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে দাফনে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়ার ঘটনার পর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মানিক পশারীর মেয়ে শিমু ও সৎ বোন হেনা বেগম এলাকায় থাকলেও রাতে তারা নিজ বাড়ির পরিবর্তে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে থাকছেন।
শনিবার রাতে সদর উপজেলার চিথলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়িতে গেলে শিমু এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাবাকে দাফনের পর তিনি মায়ের সঙ্গে গোপালগঞ্জে চলে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার তিনি চিথলিয়া গ্রামের বাড়িতে ফিরে এসেছেন। তবে মা মনোয়ারা বেগম এখনও গোপালগঞ্জে আরেক বোনের বাসায় অবস্থান করছেন।
কারও কাছ থেকে সরাসরি কোনো হুমকি না পেলেও বাবাকে দাফনের সময় সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে মানসিকভাবে কিছুটা আতঙ্কে রয়েছেন বলে জানান শিমু। বলেন, “এ কারণে রাতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে থাকি। ফুফু হেনা বেগমও রাতে একই গ্রামে নিজের মেয়ে কিংবা ছেলের বাড়িতে থাকেন।”
শিমু বলেন, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাদের ঘরে আগুন দেওয়া হয়। এরপর তিনি তার বাবা- মা, বোন ও ভগ্নিপতির সঙ্গে গোপালগঞ্জে চলে যান। এর তিন মাস পর তিনি বাড়িতে আসা শুরু করেন। এরপর মাঝেমধ্যে বাড়িতে এসে একমাত্র ছেলেকে নিয়ে থাকতেন। কিছুদিন পর আবার গোপালগঞ্জে চলে যেতেন।
মানিক পশারীর বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক। গ্রামের মানুষজন যে যার মতো দৈনন্দিন কাজ করছেন। চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন স্থানে মানুষের উপস্থিতিও ছিল স্বাভাবিক। তবে মানিক পশারীর বিষয়ে কথা বলতে কেউ আগ্রহ দেখাননি।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, মানিক পশারীকে নিয়ে কথা বললে ঝামেলায় পড়তে পারেন- এমন আশঙ্কা থেকেই তারা এ বিষয়ে কথা বলতে চান না। নিরাপত্তার স্বার্থে তারা নিজেদের নামও প্রকাশ করতে চাননি। তবে তাদের কেউ কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা হুমকি দেননি। এলাকার পরিবেশও শান্ত রয়েছে বলে জানান তারা।
মানিক পশারীর এক চাচাতো ভাই বলেন, তারা নির্বিঘ্নে এলাকায় চলাচল করছেন। কারও কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাধেশ্যাম সরকার বলেন, মানিক পশারীর পরিবারের সদস্যদের শঙ্কার বিষয়ে কেউ মৌখিক বা লিখিতভাবে কোনো অভিযোগ করেননি। তবে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ নিয়মিত ওই এলাকায় টহল দিচ্ছে।
৫ অগাস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আত্মগোপনে চলে যান ৮৭ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী। টুঙ্গিপাড়ায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় ২৪ অক্টোবর তার মৃত্যু হয়।
পরে পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হলে জামায়াত সমর্থিত কর্মীরা আপত্তি জানান বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে পুলিশ লাইনে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়।
পরবর্তী সময়ে গভীর রাতে পুলিশ পাহারায় দাফন সম্পন্ন হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ড হয়েছিল। এ মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন মানিক পশারী।
পরে ২০২৩ সালের ১৪ অগাস্ট রাতে কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী মারা যান।
আরও পড়ুন:
‘জামায়াতের বাধা’: সাঈদীর মামলার সাক্ষীর লাশ ১৫ ঘণ্টা পর পুলিশ প্রহরায় দাফন
