ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ২০, ককটেল বিস্ফোরণ
ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের সময় আতঙ্কে বাজারের দোকানপাট ও সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় বিএনপির দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে।
শনিবার বিকাল সোয়া ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা পর্যন্ত উপজেলার সদরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন কসবা থানার ওসি আলী মোহাম্মদ রাশেদ।
আহতরা স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
বিএনপির নেতাকর্মী জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত। তাদের একটি পক্ষ স্থানীয় সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের অনুসারী। অন্যটি জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহমেদ ভূঁইয়ার অনুসারী।
কসবা উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের আংশিক কমিটি থেকে সংসদ সদস্যের অনুসারীরা বাদ পড়েছেন বলে দাবি স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মীর।
প্রত্যক্ষদর্শী ও উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন উপলক্ষে জেলা বিএনপির নেতা কবির আহমেদ ভূঁইয়ার অনুসারী কসবা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হকের নেতৃত্বে বেলা ৩টার পর থেকে উপজেলার আড়াইবাড়ি দরবার শরীফের মাঠ ও কদমতলী এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন নেতাকর্মীরা।
অপরদিকে ছাত্রদলের নতুন কমিটি দেওয়াকে কেন্দ্র করে বুধবার সন্ধ্যায় প্রতিপক্ষের মারধরে কয়েকজন আহতের ঘটনায় প্রতিবাদ সমাবেশ করতে সংসদ সদস্যের অনুসারী নেতাকর্মীরা কসবা পুরাতন বাজার এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন।
বিকালে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে বিএনপি নেতা শরীফুল হকের নেতৃত্বে আড়াইবাড়ি দরবার শরীফের মাঠ থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়। এতে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। শোভাযাত্রাটি উপজেলার কদমতলী মোড় এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এরপর সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা চলছিল।
এ সময় কবির আহমেদের অনুসারীদের মিছিল প্রতিহত করতে সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের অনুসারীরা উপজেলার বিজনা নদীর সেতুর পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে এগিয়ে যান। সেখানে সেতুর নিচে কসবা থানা পুলিশের সদস্যরা অবস্থান নেন।
এ সময় সংসদ সদস্যের অনুসারীদের একটি পক্ষ কদমতলী এলাকায় গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। এক পর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়; যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলাকালে উভয়পক্ষ ককটেলের বিস্ফোরণসহ ইটটকেল নিক্ষেপ করেন।
এ সময় পুরো পৌর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। সংঘর্ষের সময় আতঙ্কে সড়কে যান চলাচলসহ বাজারের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন।
অভিযোগ অস্বীকার করে কসবা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুল হক বলেন, “উভয়পক্ষকে নিরাপত্তা দিতে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। এ ধরনের অভিযোগ সত্য না। ককটেল বিস্ফোরণের ঘটেছে কি-না বলতে পারব না। কারণ সংঘর্ষ নিয়েন্ত্রণে আমি দৌঁড়ঝাপের মধ্যে ছিলাম।”
বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি আলী মোহাম্মদ রাশেদ।
