১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ফতুল্লায় ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে সাড়ে ৩ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি, নির্যাতন

ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 12 Oct 2026, 11:57 PM

Updated : 12 Oct 2026, 11:57 PM

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক ব্যবসায়ীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সাড়ে ৩ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি এবং ৬ ঘণ্টা ধরে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোববার বিকালে ইসদাইরের অক্টো অফিস এলাকার নিঝুম সোসাইটির গলি থেকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মো. সাগর হোসেন।

৩২ বছর বয়সী সাগর ফতুল্লার দেওভোগ নূর মসজিদ এলাকার শরিফ হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন পোশাক ব্যবসায়ী।

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি।”

ভুক্তভোগী সাগর হোসেন বলেন, রোববার বিকাল পৌনে ৪টার দিকে এক বন্ধুর সঙ্গে নিঝুম সোসাইটির গলি দিয়ে যাওয়ার সময় ধারালো অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সঙ্গে থাকা বন্ধুকেও অস্ত্রের মুখে হুমকি দেওয়া হয়। পরে সাগরকে বিসিকের একটি কার্যালয়ের ভেতর ছয় ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়।

রাতেই নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে তিনি ফতুল্লা মডেল থানায় একটি অভিযোগ দেন বলেও জানান।

অভিযোগে বিসিকের শাসনগাঁও এলাকার অরুন হাওলাদারের ছেলে মো. রাইসান রোমান (৩২), মো. আতিক ও মাসদাইরের আব্দুস সালামের নাম দিয়ে অজ্ঞাত আরও পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা সাগরকে একটি প্রাইভেট কারে তুলে বিসিকের শাসনগাঁও এলাকার ‘এম্প্যায়ার কটন’ নামে একটি কার্যালয়ের ভেতর আটকে রাখে। পরে সেখানে তাকে লোহার দিয়ে এলোপাথারি মারধর করা হয়। মারধরের এক পর্যায়ে তারা সাগরের মোবাইল ফোন থেকে তার দুবাই প্রবাসী ভগ্নিপতি হিরু সিকদারকে হোয়াটস অ্যাপে কল করে মুক্তিপণ হিসেবে সাড়ে ৩ কোটি টাকা দাবি করে।

“অন্যদিকে আমার বন্ধু আমাকে উদ্ধারের জন্য থানা-পুলিশসহ স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ ও আইনি পদক্ষেপের জন্য তৎপরতা শুরু করে। বন্ধুর এই তৎপরতা টের পেয়ে আসামিরা রাত পৌনে ১০টার দিকে আমাকে ছেড়ে দেয়। ছাড়ার আগে আমি যদি তাদের দাবি করা টাকা না দেই এবং এ বিষয়ে পুলিশ-প্রশাসনের কাউকে জানাই তাহলে খুন করে লাশ গুম করে ফেলবে বলেও হুমকি দেয়।”

এ বিষয়ে আসামি রাইসার রোমানের হোয়াটস অ্যাপ নম্বরে ফোন করা হলে তিনি তার কার্যালয়ে গিয়ে কথা বলতে অনুরোধ করেন।

রোমান বলেন, “আপনি একটু কষ্ট করে অফিসে আসেন। সামনাসামনি কথা বলি। অনেক সময় অনেক কিছু ভুল হতে পারে আমার। সামনাসামনি কথা বলবো।”

ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি ওসি স্যার দেখছেন। তিনি পরবর্তীতে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিবেন।”

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাহাবুব আলমের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।