ছাত্রকে মারপিট, কারণ জানতে গিয়ে ‘পিটুনির’ শিকার পরিবার

মাদারীপুরে মাদ্রাসার ঘটনায় মামলা হলে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মাদারীপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 5 Feb 2024, 03:43 PM
Updated : 5 Feb 2024, 03:43 PM

মাদারীপুরের ডাসার উপজেলায় শ্রেণিকক্ষে দুষ্টুমি করায় ১২ বছরের এক মাদ্রাসা ছাত্রকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

বিষয়টি জানতে মাদ্রাসায় গেলে ওই ছাত্রের পরিবারের চারজনকে একটি কক্ষে আটকে পিটুনি দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে জরুরি নম্বর ‘৯৯৯’ এ খবর পেয়ে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার বিকালে উপজেলার কাজীবাকাই ইউনিয়নের পশ্চিম মাইজপাড়া আদর্শ হাফেজিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান ডাসার থানার ওসি এস এম শফিকুল ইসলাম।

গ্রেপ্তার শিক্ষক ফকির মোক্তারুজ্জামানের বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বাসিন্দা। এক বছর আগে তিনি সেখানে যোগদান করেন।

এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, রোববার দুপুরে বন্ধুদের সঙ্গে মাদ্রাসায় দুষ্টামি করে মাদারীপুর শহরের কুকরাইল এলাকার জামাল মৃধার ছেলে আবির হোসেন মৃধা। এতে ক্ষিপ্ত হন শিক্ষক ফকির মোক্তারুজ্জামান।

পরে অন্য দুই ছাত্রের সহযোগিতায় আবিরের হাত-পা চেপে ধরে বেত দিয়ে পিটিয়ে আহত করেন ওই শিক্ষক। ভয়ে পালিয়ে বাড়িতে যায় আবির। পরে বিকালে বিষয়টি জানতে মাদ্রাসায় যান আবিরের পরিবারের সদস্যরা।

এ সময় তাদের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে ওই শিক্ষকের নেতৃত্বে আবিরের বাবাসহ চারজনকে পিটুনি দেয় এলাকাবাসী। জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ এ খবর পেয়ে আহতদের উদ্ধার করে পুলিশ।

রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওই শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের চারজন সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

নির্যাতনের শিকার আবির হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে বলে, “আমার কোনো দোষ ছিল না। হুজুর আমাকে খালি খালি পিটাইছে। দুপুরের দিকে কাউকে কিছু না বলে বাড়ি চলে আসি। পরে আমার আব্বু মাদ্রাসায় গেলে হুজুর এলাকার লোকজন নিয়ে সবাইকে মারছে।”

আবিরের বাবা জামাল মৃধা বলেন, “আমার ছেলেকে মানুষ হওয়ার জন্য মাদ্রাসায় পাঠিয়েছি। অহেতুক হুজুর আমার ছেলেটাকে পিটাবে কেন? সেটা জানতে গেলে আমাদের ওপর হামলা করে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

ওসি শফিকুল বলেন, মামলা পর অভিযান চালিয়ে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে।