১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

দুর্ঘটনায় উড়ে গেল বাসের ছাদ, তারপরও থামলেন না চালক

ছাদ উড়ে যাওয়ার পর যাত্রীদের নিয়ে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার বাসটি চালিয়ে নিয়ে যান চালক। যাত্রীরা অনুরোধ করলেও থামেননি তিনি।

দুর্ঘটনায় উড়ে গেল বাসের ছাদ, তারপরও থামলেন না চালক
ছাদ উড়ে যাওয়া বাস। ঘটনাস্থল ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে।

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Apr 2025, 09:08 AM

Updated : 26 Aug 2026, 12:32 PM

প্রথমে দুই গাড়িকে ধাক্কা। এরপর পালাতে গিয়ে এক্সপ্রেসওয়ের রেলিংয়ে ধাক্কা লেগে উড়ে যায় বাসের ছাদ। ধরা পড়ার ভয়ে চালক তখন বেপরোয়া; ওই অবস্থায় আতঙ্কিত যাত্রীদেরসহ বাসটিকে ৫ কিলোমিটার চালিয়ে নিয়ে ঢুকে পড়েন অন্ধকার গ্রামে। 

এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানি না হলেও ছাদ উড়ে যাওয়া চলন্ত বাস থেকে লাফিয়ে নামতে গিয়ে আহত হন কয়েক যাত্রী। এমন ঘটনায় হতবাক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও। 

ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের শ্রীনগরে বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে।

শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা দেওয়ান আজাদ বলেন, “এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন জায়গা থেকে আহত ৮ জনকে উদ্ধার করেছি। বেপরোয়া বাসটির গতি মাঝেমধ্যে কমলে তারা লাফিয়ে নামেন। এর মধ্যে একজনের মাথা ফেটেছে। একজন চলন্ত বাস থেকে লাফিয়ে কোথায় পড়েছেন তার এখনও হদিস পাওয়া যায়নি।” 

‘বরিশাল এক্সপ্রেসওয়ে’ নামের ওই বাসের এক যাত্রীর ভাষ্যে উঠে এসেছে ভয়ঙ্কর সেই ঘটনার কথা। 

প্রায় পাঁচ কিলোমিটার চলার পর একটি গ্রামের ভেতরে ঢুকে পড়ে বাসটি। 

প্রায় পাঁচ কিলোমিটার চলার পর একটি গ্রামের ভেতরে ঢুকে পড়ে বাসটি।

তিনি বলেন, দ্রুতগতিতে চলতে থাকা বাসটি রাত ৮টার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের কামারখোলা রেল ফ্লাইওভারের ওপর প্রথমে সামনে থাকা একটি মাইক্রোবাস ও কভার্ড ভ্যানকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে গেলে আতঙ্কিত চালক পেছনে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর গাড়ি দেখে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। 

“পরে সমষপুরে এক্সপ্রেসওয়ের রেলিংয়ের সাথে ধাক্কা লেগে বাসের ছাদ উড়ে ছিটকে রাস্তায় পড়ে। এসময় যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে বাসটি থামানোর অনুরোধ করেন। কিন্তু তারপরও না থেমে চালক প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ চালিয়ে যান। পদ্মা সেতু দিয়ে না গিয়ে বাসটি পাশের একটি রাস্তায় ঢুকে পড়ে। এ সময় বাস থেকে কয়েক যাত্রী লাফিয়ে নেমে যান।

ওই যাত্রী বলেন, এক পর্যায়ে পদ্মা সেতু উত্তর থানা এলাকার কুমারভোগের অন্ধকার সড়কে ঢুকে গেলে যাত্রীদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছিদ্দিকিয়া মাদ্রাসার সামনে বাসটি আটকে দেন। 

এ সময় বাসের চালক সটকে পড়েন।

বাসটিতে ২০/২৫ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি। 

বাসটি পদ্মা সেতু উত্তর থানায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি মো. জাকির হোসেন।

হাসাড়া হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, এ ঘটনায় গুরুতর আহত একজনকে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। 

“এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। বাস চালককে আটকে অভিযান চলছে।”