‘বোমায়’ নিহত: বেলকুচিতে সিআইডি, মামলা হয়নি ৭ দিনেও
নিহত ফজলুলের ছেলে রাশেদ শেখের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর সংযোগ কেটে দেন।
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় এক শ্রমিক লীগ নেতার বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণে এক ব্যক্তির নিহতের ঘটনায় সাত দিনেও মামলা হয়নি। এরই মধ্যে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন দেখে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ।
উপজেলার সুবর্ণসাড়া গ্রামের সরকার বাড়িতে বিস্ফোরণের চারদিন পর শুক্রবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কুষ্টিয়ার ফজলুল হক ফজলু শেখ (৪৫) নিহত হন।
বেলকুচি থানার ওসি আনিছুর রহমান বলেন, “আমরা নিহতের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছি, তারা এলে মামলা নেওয়া হবে।”
সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল বলেন, “আমরা আশা করছি, স্বজনরা এসে মামলা করবে। যদি তারা না আসে সেক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ বিষয়ে সোমবার বিকালে ফজলুলের ছেলে রাশেদ শেখের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর সংযোগ কেটে দেন।
১৯ ডিসেম্বর দুপুরে সুবর্ণসাড়া গ্রামের সরকার বাড়িতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিক চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় বাড়ির মালিক শ্রমিক লীগ নেতা মোতালেব হোসেন সরকার দাবি করেন, রাইস কুকার বিস্ফোরণে শব্দ হয়েছে।
সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) দুটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলে জানান সহকারী পুলিশ সুপার একরামুল হক।
সোমবার বিকালে তিনি বলেন, “বোমা বিস্ফোরণের সত্যতা পেয়েছি। এর কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। আমরা বিষয়টির ছায়া-তদন্ত করছি। প্রয়োজন হলে আমরা আবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করব।”
যদিও বিস্ফোরণের পর থানা পুলিশ দাবি করেছিল, ওই বাড়িতে গিয়ে তারা কোনো বোমার আলামত পাননি।
কিন্তু আহত ফজলুলের মৃত্যুর সংবাদ শনিবার প্রকাশিত হলে বোমা বিস্ফোরণের বিষয়টি বেরিয়ে আসে। পরবর্তীতে জানা যায়, এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
এনায়েতপুর থানার সৌদিয়া চাঁদপুর গ্রামের তাছের আলীর ছেলে জিন্নাহ আলী (৪৫) নামে ওই ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানালেও তার কোনো খোঁজ দিতে পারেনি পুলিশ।
নিহত ফজলুল হক ফজলু (৪৫) কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মিলপাড়া মহল্লার তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। তিনি রাজবাড়ির পাংশা উপজেলায় বসবাস করতেন বলে জানায় পরিবার। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতিসহ তিনটি মামলা রয়েছে।
আহত ফজলুকে সাভারের ঝালমুড়ি বিক্রেতা হিসেবে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে এনে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে যারা তাকে নিয়ে এসেছিল তাদের হদিশ পায়নি পুলিশ।
এদিকে ঘটনার পর থেকে ওই বাড়ির মালিক মোতালেব হোসেন গা-ঢাকা দিয়েছেন। তিনি শ্রমিক লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। তিনি সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের নৌকার প্রার্থীর পক্ষে জোরেশোরে কাজ করছিলেন।
ফজলুলের মৃত্যুর ঘটনায় ঢাকার শাহবাগ থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান শনিবার জানিয়েছিলেন, বোমা বিস্ফোরণে ফজলুর শরীরের ৩০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাকে ১৯ ডিসেম্বর ৪টায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছিল। শুক্রবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফজলু মারা গেছেন।
ময়নাতদন্ত শেষে রোববার বিকালে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাস্থল বেলকুচি হওয়ায় ওই থানায়ই এ বিষয়ে মামলা হবে।
ফজলুর সুরতহাল প্রতিবেদনে, বোমা বিস্ফোরণে নিহতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
