খালার বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তরুণীকে দলবেঁধে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩

কুড়িগ্রামের ওই তরুণী মায়ের সঙ্গে অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হলে দুই যুবক তাকে মোটরসাইকেলে করে তুলে নিয়ে যান বলে জানায় পুলিশ।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 15 Feb 2024, 05:35 PM
Updated : 15 Feb 2024, 05:35 PM

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় এক তরুণীকে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুই যুবক ও তাদের সহযোগী এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার বিকালে পৌরসভার সাঞ্জুয়ারভিটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান নাগেশ্বরী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সারোয়ার হোসেন।

এ ঘটনায় রাতে ওই তরুণীর বাবা চারজনের নামে থানায় মামলা করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তাররা হলেন- উপজেলার মালভাঙ্গা গ্রামের খোকা মিয়া, তার প্রতিবেশী মূসা মিয়া এবং সাঞ্জুয়ারভিটা গ্রামের শাহ আলমের স্ত্রী খুশি বেগম। পলাতক রয়েছেন শাহ আলম।

মামলার বরাতে পুলিশ পরিদর্শক সারোয়ার বলেন, “বুধবার বেলা ৩টার দিকে ওই তরুণী মায়ের সঙ্গে অভিমান করে বামনডাঙ্গা ইউনিয়নে তার খালার বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশে বের হন। নাগেশ্বরীর ভাই ভাই মোড় পার হওয়ার সময় ওই তরুণীর সঙ্গে খোকা মিয়ার দেখা হয়।

“পূর্ব পরিচিত হওয়ায় কোথায় যাচ্ছেন বলে খোকা তাকে জিজ্ঞাসা করেন। উত্তরে ওই তরুণী খালার বাড়িতে যাচ্ছেন এবং সেখানেই রাতে থাকবে বলে জানান। খোকা তাকে মোটরসাইকেলে করে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে প্রতিবেশী মূসা মিয়াকে ডেকে নেন।

“পরে মূসা মোটরসাইকেলে ওই তরুণীকে তুলে নিয়ে সাঞ্জুয়ারভিটা গ্রামের শাহ আলমের বাড়িতে যান। সেখানে মূসা ও খোকা তাকে ধর্ষণ করেন শাহ আলম ও তার স্ত্রী খুশির হাতে তুলে দিয়ে যান। পরে তাকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়।”

পুলিশ জানায়, স্বজনরা খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে স্থানীয়দের সহায়তায় শাহ আলমের বাড়ি থেকে ওই তরুণীকে রাত ৮টার দিকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় খোকা ও মূসাসহ ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগে খুশিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ওই তরুণীর বাবা সাংবাদিকদের বলেন, “আমার মেয়ে সহজ সরল, হাবাগোবা প্রকৃতির। খোকা ও মূসা আমার মেয়েকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের পর বিক্রি করে দিয়েছে।

“আমার মেয়ের সামনেই শাহ আলমের স্ত্রী অন্য ছেলেদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন। মেয়ে সবকিছু বলেছে। আমি উপযুক্ত বিচার চাই।”

পরিদর্শক সারোয়ার হোসেন বলেন, এ ঘটনায় চারজনের নামে মামলা হয়েছে। রাতেই এক নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিকালে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

আর ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।