বড় বোনের নামে রেজিস্ট্রেশন, বসা হল না এসএসসিতে

শরীয়তপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জানান, বিষয়টি আগে জানলে ওই শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় বসার ব্যবস্থা গ্রহণে চেষ্টা করা হত।

শরীয়তপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 17 Feb 2024, 01:23 PM
Updated : 17 Feb 2024, 01:23 PM

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় ছোট বোনের নামে রেজিস্ট্রেশন না করে তার বড় বোনের নামে ফরম পূরণ করায় এসএসসি পরীক্ষায় বসতে পারল না এক শিক্ষার্থী।

শনিবার নড়িয়া উপজেলার বিঝারি ইউনিয়নের কান্দাপাড়া গ্রামে গিয়ে এমন তথ্য পাওয়া যায়।

ওই গ্রামের মৃত সন্তোষ বাছার ও মনিকা রাণী বাছারের মেয়ে পূর্ণিতা বাছার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। পূর্ণিতা বিঝারি ইউনিয়নের পঞ্চপল্লী গুরুরাম উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, পূর্ণিতার বাবার মৃত্যুর পরেও তার মা অনেক কষ্ট করে তাকে ও তার বড় বোন পূর্ণিমাকে পড়াশোনার জন্য পঞ্চপল্লী গুরুরাম উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি করান। তারাও ঠিকভাবে পড়াশোনা করছিল।

গত বছর বড় বোন পূর্ণিমার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও পারিবারিক কারণে তিনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি।

বড় মেয়ে পূর্ণিমা এসএসসি পরীক্ষায় বসতে না পাড়ায় পরিবারের ইচ্ছে ছিল ছোট মেয়ে পূর্ণিতা পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ভালো একটি কলেজে ভর্তি হবে।

নিয়ম অনুযায়ী যথাসময়ে পরীক্ষার ফরম পূরণ ফি জমা দিয়েছিল পূর্ণিতা। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ ভুলক্রমে পূর্ণিতা রেজিস্ট্রেশন ফরম পূরণ না করে তার বড় বোন পূর্ণিমার ফরম পূরণ করে ফেলে।

এ বছর এসএসসি পরীক্ষা শুরুর একদিন আগে (বুধবার) পূর্ণিতা স্কুলে প্রবেশপত্র আনতে গেলে স্কুল কর্তৃপক্ষ তার বড় বোন পূর্ণিমার প্রবেশপত্র দেয় তাকে। প্রবেশপত্র হাতের পাওয়ার পরদিনই পরীক্ষা হওয়ায় পড়াশোনার চাপে পূর্ণিতা প্রবেশপত্রের সব তথ্য খেয়াল করে দেখেনি।

পরীক্ষায় অংশ নিতে পরদিন পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার পর কেন্দ্রের সচিব পূর্ণিতাকে অন্যজনের প্রবেশপত্র নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে আসার অভিযোগে কেন্দ্র থেকে বের করে দেন।

এ বিষয়ে পূর্ণিতা বাছার বলেন, “আমার বাবা নেই। অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছিলাম। পরীক্ষার ফিও জমা দিয়েছি। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষের ভুলের কারণে আমি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারিনি।

“আমার যে ক্ষতি হয়েছে, তার কোনো ক্ষতিপূরণ হয় না। স্যারদের বলার পর তারা বলেছে, আগামী বছর পরীক্ষায় অংশ নিতে।”

ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক গৌতম দাস বলেন, “পূর্ণিমা ও পূর্ণিতা দুই বোন। তাদের দুইজনের নাম কাছাকাছি হওয়ায় এই ভুলটি হয়েছে। তাছাড়া একেবারে শেষ সময়ে আমি বিষয়টি জানতে পেরেছি। যদি দুই দিন সময়ও পেতাম, তাহলে শিক্ষা বোর্ডে গিয়ে যেভাবে হোক, বিষয়টির সমাধান করতাম।

“স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকরা মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আগামী এক বছর পূর্ণিতার পড়াশোনার সকল ব্যয় ভার স্কুল কর্তৃপক্ষ বহন করবে, যাতে সে আগামী বছর পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে।”

জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শামসুন নাহার বলেন, “বিষয়টি আমি জানতাম না। প্রবেশপত্রের বিষয়টি সম্পূর্ণ স্কুল কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিসের বিষয়। বিষয়টি যদি আগে জানতে পারতাম, তাহলে ওই শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় বসার ব্যবস্থা গ্রহণে চেষ্টা করতে পারতাম।”