Published : 07 Nov 2025, 04:34 PM
চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় খাগড়াছড়িতে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার সমতল ও পাহাড়ি এলাকায় পাকা ধানের সুবাসে ভরে উঠেছে ফসলের মাঠ।
এর মধ্যে ধান কাটা-মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। তবে উৎপাদন ভালো হলেও বাজারে ধানের লাভজনক দাম না পাওয়ায় হতাশ চাষিরা।
কৃষকদের অভিযোগ, বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় প্রতি মণ ধান উৎপাদনে এক হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে। অথচ বাজারে প্রতিমণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র সাড়ে আটশ থেকে সাড়ে নয়শ টাকায়। উৎপাদন খরচের সঙ্গে বিক্রয়মূল্যের পার্থক্য থাকায় লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকরা।

দীঘিনালা উপজেলার তারাবুনিয়া এলাকার কৃষক মো. আব্দুল মান্নান, নুরুল আমিন জানান, এবার ফলন ভালো হলেও দাম না পেলে আগামী মৌসুমে চাষাবাদ কমিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন তারা।
আরেক কৃষক হারুন মিয়া বলেন, “যে হারে ফসল হয়েছে, সে হারে ধানের দাম পাচ্ছি না। খরচ বেশি, লাভ নেই। বন্যা না হওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে, কিন্তু দাম না থাকলে চাষ করে লাভ কোথায়?
“এবার পাঁচ কানি (প্রতি কানিতে ৪০ শতক) জমিতে চাষ করেছি। সামনের বছর এক কানিতে ধান চাষ করব।”
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আমন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে খাদ্য অধিদপ্তরে পাঠানোর কথা বলেছেন খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আদুই রঞ্জন তঞ্চঙ্গ্যা।
তিনি বলেন, “অধিদপ্তরের অনুমোদন পাওয়ার পর সরকার নির্ধারিত দামে ধান ক্রয় করা হবে। তবে গত মৌসুমে প্রতি কেজি ধান ৩৭ টাকা দরে কেনা হয়েছিল।”

খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “এখন পর্যন্ত ১০ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে প্রচুর ধান বাজারে আসায় দাম কিছুটা কম।
“তবে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, ধান শুকিয়ে সংরক্ষণ করে কিছুদিন পর বিক্রি করলে ভালো দাম পাওয়া যাবে। মৌসুমের শুরুতে অল্প কিছু বিক্রি করুক, বাকি ধান সংরক্ষণ করলে দুই তিন মাস পর ভালো দাম পাবে।”
জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে খাগড়াছড়িতে ২৯ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদ লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও চাষ হয়েছে ২৯ হাজার ৪১০ হেক্টর। আর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৫ হাজার ২১৮ টন।