১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

টঙ্গীতে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে চাঁদা দাবি: দুদিনে গ্রেপ্তার ১১

টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্যসচিব নাজমুল হোসেন মণ্ডলসহ ১৯ জনের নাম দিয়ে অজ্ঞাতনামা আরও ৭০ থেকে ৮০ জনকে আসামি করে মামলা হয়।

গাজীপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Jul 2026, 12:31 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:33 PM

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে চাঁদা দাবি এবং ঝুট ব্যবসা দখলের চেষ্টার অভিযোগে হওয়া মামলায় দুদিনে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- মানোয়ার হোসেন, কাজী তৌহিদুল ইসলাম সজিব, রনি খা, রিয়াজ (ওরফে রাজন), জাহাঙ্গীর শেখ, জহির, বায়েজিদ, রাজিব, হোসাইন, রাসেল ও সাগর।

তাদের মধ্যে মানোয়ার হোসেন, কাজী তৌহিদুল ইসলাম সজিব ও রনি খাকে বুধবার গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার টঙ্গী এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাকি আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়,  ২৮ জুন দুপুরে টঙ্গী পূর্ব থানার পাগাড় বিসিক ফকির মার্কেট এলাকায় ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি মোটরসাইকেলে করে শতাধিক ব্যক্তি হানা দেন। তাদের মধ্যে দুই থেকে তিনজনের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে পুলিশের দাবি।

অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, মোটরসাইকেলের বহরটি ফাইজা বাটন অ্যান্ড জিপার লিমিটেড কারখানার সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। পরে কয়েকজন কারখানায় ঢুকে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় সমঝোতা ছাড়া ঝুট বাইরে না নেওয়ার কথা বলা হয়।

পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান জামাল ও তার সহযোগীদের পথরোধ করে চাঁদা দাবি এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এ ঘটনায় ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান জামাল টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্যসচিব নাজমুল হোসেন মণ্ডলসহ ১৯ জনের নাম দিয়ে অজ্ঞাতনামা আরও ৭০ থেকে ৮০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, কারখানা থেকে মালামাল বের করার সময় মোটরসাইকেলে এসে কারখানাটি ঘিরে ফেলে। পরে তারা ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং অনুমতি ছাড়া জুট বিক্রি না করার হুমকি দেয়।

টঙ্গী পূর্ব থানার এসআই তুহিন বলেন, সিসিটিভি ভিডিও বিশ্লেষণ করে অস্ত্র প্রদর্শনকারী কিশোরসহ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, প্রায় ৬০টি মোটরসাইকেলের একটি বহর কারখানার সামনে অবস্থান নেয়। একটি মোটরসাইকেলের পেছনে বসা এক কিশোরকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করতে দেখা যায়।

অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।