Published : 12 Mar 2026, 02:15 PM
সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় ভুল বোঝাবুঝিতে এক পিকআপ চালককে ‘ছিনতাইকারী সন্দেহে’ পিটুনি দেওয়ার পর ক্ষুব্ধ সেই চালক পুলিশের এএসআইয়ের কানে ও গালে ঘুষি মেরেছে।
উপজেলার বাবনা পয়েন্টে মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। পরে ওই ঘটনার একটি ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
লাঞ্ছনার শিকার পুলিশ সদস্য অরুণ মহানগর পুলিশের দক্ষিণ সুরমা থানায় এএসআই। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মারধরের শিকার পিকআপ ভ্যানের চালক জুয়েল মিয়া সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার বাড়ি দক্ষিণ সুরমার খোজারখলা এলাকায়।
ফেইসবুকে ভাইরাল ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কিছু ব্যক্তি তর্কাতর্কি করছেন। তখন হঠাৎ উদোম শরীরের এক যুবক একজন পুলিশ সদস্যের কানে ও গালে জোরে ঘুষি দেন।
কী ঘটেছিল জানতে চাইলে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সিলেট মহানগর ট্রাফিক পুলিশ সার্জেন্ট সত্যজিৎ নগরীর সুবিদবাজার এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যানকে থামার জন্য সিগন্যাল দেন। কিন্তু চালক জুয়েল মিয়া গাড়িটি না থামিয়ে দ্রুত চালাতে থাকেন। এতে ট্রাফিক সার্জেন্টের ‘সন্দেহ হলে’ তিনি একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে গাড়ির পেছনে ছোটেন।
এক পর্যায়ে বাবনা পয়েন্টে অটোরিকশা চালক ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় পিকআপ ভ্যানটি আটক করা হয়। এ সময় উত্তেজিত লোকজন চালক জুয়েলকে বেধড়ক মারধর করেন।
মারধরের এক পর্যায়ে লোকজন জানতে পারেন, ওই যুবক ছিনতাইকারী নয়; পিকআপ ভ্যানের চালক। এ সময় স্থানীয় লোকজন ছিনতাইয়ের প্রমাণ দেখতে চান উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের কাছে।
পুলিশ তা দেখাতে না পারায় সময় চালকের পক্ষে অন্য শ্রমিকরা অবস্থা নিলে পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে উঠে। স্থানীয় পরিবহন নেতারা পুলিশের ওপর ক্ষুব্ধ হন।
এমন সময় চালক জয়েল সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা মহানগর পুলিশের দক্ষিণ সুরমা থানায় এএসআই অরুণের কানে ঘুষি দেন। এর কিছুক্ষণ পর তিনি বমি করতে শুরু করেন। রাত তিনটার দিকে ওই চালককে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী বলেন, “বেপরোয়া গতির এক পিকআপ ভ্যান চালককে নগরের সুবিদবাজার পয়েন্টে পুলিশ সিগন্যাল দেয়। কিন্তু চালক সিগন্যাল অমান্য করে চলে যায়। এমনকি রিকাবীবাজার পয়েন্টে সিগন্যাল দিলেও থামেনি।
“পরে এক সার্জেন্ট তাকে ধাওয়া করে বাবনা পয়েন্টে গিয়ে আটক করেন। আটকের সময় এলাকার লোকজন ওই চালককে মারধর করেন। পরে পুলিশের সঙ্গে এলাকার একজনের বাকবিতণ্ডার সময় তিনি পুলিশের গালে থাপ্পড় মারেন।
“ওই ঘটনার পর চালককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’’
ঘটনাটি আইনগত ভাবে মোকাবিলা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘পুলিশের কাজে কেউ বাধা দিলে, হেনস্থা বা গায়ে হাত তোলার মত ঘটনা কোনো অবস্থাতে তা সহ্য করা হবে না।”
এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে জানিয়ে দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি সৈয়দ আনিসুর রহমান বলেন, “পিকআপ ভ্যানের ওই চালক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি মানসিক রোগী।”