Published : 28 Aug 2025, 07:04 PM
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-জাকসু নির্বাচনকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একের পর এক ‘অগণতান্ত্রিক ও শিক্ষার্থীবিরোধী পদক্ষেপের’ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন।
ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া জটিলকরণ, নিবার্চনের তারিখের সঙ্গে বিভিন্ন বিভাগের পরীক্ষার তারিখের সমন্বয়হীনতা শিক্ষার্থীদের নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের পরিবেশ ব্যাহত করছে বলে মনে করে সংগঠনটি।
ছাত্র ইউনিয়ন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি অদ্রি অংকুর এবং সাধারণ সম্পাদক ফাইজান আহমেদ অর্ক এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা লক্ষ্য করছি যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একদিকে দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাকসু নির্বাচনকে সহজ ও অংশগ্রহণমূলক করার পরিবর্তে নানা প্রক্রিয়াগত জটিলতা তৈরি করছে। আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচনের আগে অযৌক্তিক ছুটি ঘোষণা, ভোটার হতে হলে হল ক্লিয়ারেন্স ও ব্যাংক ড্রাফটের মতো শর্ত আরোপ- এসব পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার প্রয়োগে নিরুৎসাহিত করার কৌশল ছাড়া আর কিছু নয়।
“এমনকি অনেক শিক্ষার্থীকে দ্বিধায় ফেলা হচ্ছে যে, তারা ছুটিতে বাড়ি যাবে নাকি ভোটের জন্য অপেক্ষা করবে। দীর্ঘ ৩৩ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ঐতিহাসিক নির্বাচনকে শিক্ষার্থীদের উৎসব ও গণতান্ত্রিক চর্চার প্রাণময় মুহূর্তে রূপ দেওয়ার পরিবর্তে প্রশাসন নানা কৌশলে অংশগ্রহণে অনীহা তৈরির ফাঁদ পেতেছে।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি চরম শিক্ষার্থীবিরোধী সিদ্ধান্ত- নির্বাচনের সময়ে বিভিন্ন বিভাগে চূড়ান্ত পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা। এরই মধ্যে ছয়টি অনুষদের ২৪টি বিভাগে পরীক্ষা নেওয়ার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে, যার মধ্যে ১১ সেপ্টেম্বর, জাকসু নির্বাচনের দিনেও পাঁচটি বিভাগে পরীক্ষা থাকার কথা রয়েছে।
নেতারা বলেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষার্থীরা একদিকে পরীক্ষার প্রস্তুতি, অন্যদিকে নির্বাচনে সক্রিয় অংশগ্রহণের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারছে না। এতে শুধু ভোটারদের নয়, বরং প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী অনেক শিক্ষার্থীর প্রচারও ব্যাহত হবে। এভাবে প্রশাসনের পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও শিক্ষাজীবন দুই দিক থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা বলেন, “আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য- জাকসু নির্বাচন যেন কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দল অথবা সংগঠনের সুবিধা অনুযায়ী নয়, বরং সকল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের উপযোগী পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক ভোটদান প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা। অথচ বাস্তবে প্রশাসন জটিল নিয়মকানুন চাপিয়ে দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সীমিত করতে চাইছে।”
ছাত্র ইউনিয়নের দাবির মধ্যে রয়েছে-
১. নির্বাচনের আগে কোনো অযৌক্তিক ছুটি বাতিল করতে হবে। ২. ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে, অপ্রয়োজনীয় শর্ত বাতিল করতে হবে। ৩. সকল শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে স্বচ্ছ, উৎসবমুখর ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। ৪. জাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো বিভাগে পরীক্ষা গ্রহণ করা যাবে না; ঘোষিত পরীক্ষা অবিলম্বে পিছিয়ে দিতে হবে।