Published : 28 Jan 2026, 06:21 PM
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-৩ আসনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের নিয়ে ‘নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে’ চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলাম ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এতে উভয়পক্ষের পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। তবে সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে জামায়াত ও বিএনপির নেতারা একে অপরকে দোষারোপ করেছেন।
বুধবার বেলা ৩টার দিকে ঝিনাইগাতি উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানান শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা।
শেরপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনী রয়েছে।
আহতদের ঝিনাইগাতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিক তাদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঝিনাইগাতি ও শ্রীবরদী উপজেলা নিয়ে গঠিত শেরপুর-৩ আসনের বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের নিয়ে ঝিনাইগাতি উপজেলা প্রশাসন ‘নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের’ আয়োজন করেন।
পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ঝিনাইগাতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল ইসলাম রাসেল, ঝিনাইগাতি থানার ওসি নাজমুল হাসানসহ অন্যরা অনুষ্ঠান শুরুর অপেক্ষা করছিলেন।

অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের নেতাকর্মীরা আগে থেকেই সামনের চেয়ারে বসা থাকলেও বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল সেখানে না পৌঁছায় তার নেতাকর্মীরা অপেক্ষা করছিলেন। তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা দর্শক সারিতে সামনে চেয়ারে বসতে না পেয়ে ক্ষুব্ধ হন।
এ সময় জামায়াতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাগবিতণ্ডা থেকে চেয়ার ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। এক পর্যায়ে অনুষ্ঠানস্থল রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ভেঙে ও পুড়িয়ে দেওয়া হয় বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল। লন্ডভন্ড হয়ে যায় অনুষ্ঠান মঞ্চ।
সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। তবে নতুন করে আবারও সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনী।
জামায়াতের প্রার্থী নূরুজ্জামান বাদলের অভিযোগ, “পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিএনপি ও তাদের সমর্থকরা আমাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা করেছে। এতে আমাদের দলের কমপক্ষে ১৫ কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।”
ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলের দাবি, “জামায়াত পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করছে। তারা দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঝিনাইগাতীর ইশতেহার অনুষ্ঠান শুরুর প্রাক্কালে হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের দলের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। বর্তমানে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন। এর মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদেরকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।”
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল সাংবাদিকদের বলেন, সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে ইশতাহার অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু সেখানে বসাকে কেন্দ্র করে একটু ঝামেলা হয়েছে। পরিস্থিতি আমরা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি। ঘটনাটি আমরা ঊর্ধ্বতনকে জানিয়েছি। এ ঘটনায় পরবর্তী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে সব স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শেরপুরের জেলা প্রশাসক মাহমুদুর রহমান বলেন, “সুন্দর একটা পরিবেশ বিরাজমান ছিল। হঠাৎ করে এমন একটা পরিবেশে সৃষ্টি হওয়ায় খুবই উদ্বেগের বিষয়। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।