Published : 13 Apr 2026, 08:04 PM
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় মোবাইল ফোনের কল না ধরাকে কেন্দ্র করে এক সহকারী অধ্যাপককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
আহত মো. রফিকুল ইসলাম (৪৫) গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি চিতলমারী উপজেলার বড়বাড়িয়া রহমানিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক।
সোমবার চিতলমারী থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত ৮ এপ্রিল দুপুরে মাদ্রাসায় একই এলাকার আবুল কালাম শেখের ছেলে রাসেল শেখ প্রবেশ করে সহকারী অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। এক পর্যায়ে রাসেল রফিকুলকে মারধর করে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে জখম করেন।
স্থানীয়রা আহত শিক্ষককে উদ্ধার করে প্রথমে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে তাকে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়।
আহত শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলামের অভিযোগ, “অনলাইন প্রশিক্ষণে থাকার সময় মোবাইলে কল না ধরাকে কেন্দ্র করে রাসেল শেখ তাকে হুমকি দেন এবং পরে মাদ্রাসায় এসে মারধর করেন।”
মামলা করার পরও আসামি ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারে ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলেও তার অভিযোগ।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রাসেল শেখ বলেন, “মাদ্রাসায় চাকরি দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে, যা ফেরত দেওয়া হয়নি।”
হামলার অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাসুদুর রহমান বলেন, “অনলাইনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৫ দিনের একটি প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন ওই শিক্ষক। এ কারণে তিনি ফোনের কল রিসিভ করতে পারেননি।
“ রাসেল মাদ্রাসায় এসে তাকে টেনে-হিঁচড়ে ফেলে হাতুড়ি দিয়ে মাথা, হাত ও কাঁধসহ বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন।”
তিনি দাবি করেন, “হামলাকারী ব্যক্তি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং ফোন না ধরায় ক্ষিপ্ত হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।”