Published : 09 Mar 2026, 03:07 PM
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের সময় সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিক ও প্রবাসীদের পাশে সরকার থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে নিহত বাংলাদেশি শ্রমিক আহমদ আলীর মরদেহ গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, “প্রবাসীদের যেকোনো সংকটে পরিবারের সদস্যদের মতো পাশে থাকবে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতে এখন পর্যন্ত চার বাংলাদেশি মৃত্যুর তথ্য জানতে পেরেছি। তার মধ্যে একজন দুবাই, একজন বাহারাইন ও দুজন সৌদিআরবে মারা গেছেন।”
“সোমবার একজনের মরদেহ দেশে আনা হলো। পর্যায়ক্রমে মরদেহ আনা হবে।”
তিনি বলেন, “যারা আহত হয়েছেন তারাও সেসব দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আমরা তাদের খোঁজখবর নিচ্ছি, পরিবারের সাঙ্গেও যোগাযোগ রাখছি। প্রবাসীদের পাশে আমরা আছি।’’

নিহত আহমদ আলী মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকা গ্রামের বাসিন্দা।
পরিবার বলছে, সম্প্রতি দুবাইয়ে ইরানের মিসাইল হামলায় মারা যান আহমদ। তিনি ৩৫ বছর ধরে দুবাইয়ে ছিলেন। পাসপোর্ট অনুযায়ী আর তার আহমদ আলী হলেও নিজ এলাকায় তিনি সালেহ আহমদ নামে পরিচিত। দুবাইয়ে তিনি পানিবাহী একটি গাড়ির চালক হিসেবে কাজ করতেন।
নিহতের ছোট দুই ভাই জাকির হোসেন ও বোরহান আহমদও একই শহরে থাকেন। তারাই পরিবারের সদস্যদের কাছে তার মৃত্যুর খবর জানান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরু হলে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও ইসরায়েলের দিকে পাল্টা হামলা শুরু করে। সেদিনই আহমদ আলীসহ তিনজন আমিরাতে নিহত হন।
আহমদ আলীর মরদেহ সিলেটে পৌঁছার পর তার স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তার ছেলে ও ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিতে বিমানবন্দরে আসেন। এ সময় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী তাদের সান্ত্বনা দেন।

মরদেহ গ্রহণের পর মন্ত্রী আরিফুল হক বলেন, “আমি নিহতের লাশ নিয়ে তার গ্রামের বড়ি যাবো। তার পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। নিহতদের পারিবারকে সরকারের তরফ থেকে সাহায্য করা হবে।’’
লাশ গ্রহণের পর নিহতের চাচাতো ভাই কামাল আহমদ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “দুর্ঘটনার পর থেকে সরকারের তরফ থেকে আমাদের পরিবারের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করা হয়েছে। আমাদের দাবি, আমার ভাইকে যেনো শহীদের মর্যাদা দেওয়া হয়।’’
এ সময় সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. রেজা-উন-নবী, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম ও সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ ওসমানী বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।