Published : 23 Apr 2026, 05:19 PM
ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফের এক নেতাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে রাঙামাটি সদরে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার সকালে সাড়ে ১০টার দিকে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে সদর উপজেলার কুতুকছড়ি এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

এর আগে শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার কুতুকছড়ি আবাসিক এলাকায় ধর্মশিং চাকমাকে (৩৯) গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি ইউপিডিএফএর সহযোগী সংগঠন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ছিলেন।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন কুতুকছড়ি এলাকার যুব প্রতিনিধি রিগেন চাকমা। স্থানীয় বাসিন্দা তারুম চাকমার পরিচালনায় এতে সংহতি জানিয়ে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ রাঙামাটি জেলা শাখা সভাপতি চয়ন চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম কেন্দ্রীয় সদস্য থুইনুমং মারমা এবং হিল উইমেন্স ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সদস্য রিপনা চাকমা বক্তব্য দেন।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বৈসাবি শেষ হতে না হতেই একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাড়িতে ঢুকে যুব নেতা ধর্মশিং চাকমাকে নৃশংসভাবে হত্যা করল। সন্ত্রাসীরা যেভাবে নিরস্ত্র মানুষকে অস্ত্র প্রয়োগ করে প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে, এই জঘন্য অপরাধ পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ ক্ষমা করবে না।
হামলাকারীদের হাত থেকে রেহাই পাননি ধর্মশিং চাকমার আপন দুই বোনও। তদেরকেও গুলি করা হয়। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।
শোষণ নিপীড়ন নির্যাতনের বিরুদ্ধে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ যুগ যুগ ধরে লড়াই সংগ্রাম করে আসছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রতিনিয়ত গুম, খুন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে।
মানববন্ধনে যুব নেতা ধর্মশিং চাকমার হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবি জানান বক্তারা।

এর আগে বুধবার একই দাবিতে কুতুকছড়ি এলাকায় সংবাদ সম্মেলনে করেছে গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম ও ধর্মশিং চাকমার পরিবার।
সংবাদ সম্মেলন থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হল- ধর্মশিং চাকমার খুনি ও তার দুইবোনকে গুরুতর আহতের সঙ্গে জড়িত সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান; হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ; জনসাধারণের চলাচলে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি এবং ধর্মশিং চাকমার স্ত্রীর ভরণপোষণ ও আহত দুই বোনের চিকিৎসার ব্যয়ভার সরকারকে বহন করতে হবে।
ধর্মশিং চাকমাকে হত্যার ঘটনায় সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে (জেএসএস) দায়ী করে এক বিবৃতি দিয়েছেন ইউপিডিএফের সহযোগী সংগঠন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি জিকো ত্রিপুরা ও সাধারণ সম্পাদক বরুন চাকমা। তবে হত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে জেএসএস।
ধর্মশিং চাকমাকে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাত পরিচয় ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে রাঙামাটির কোতোয়ালি থানায় মামলা করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন: