Published : 17 Apr 2026, 12:25 PM
রাঙামাটি সদর উপজেলায় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) এক নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন তার দুই বোন।
শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার কুতুকছড়ি আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানান রাঙামাটির জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব।
নিহত ধর্মসিং চাকমা ইউপিডিএফএর সহযোগী সংগঠন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি।
এই ঘটনায় গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি জিকো ত্রিপুরা ও সাধারণ সম্পাদক বরুন চাকমা সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে কুতুকছড়ি আবাসিক এলাকায় নিজ বাসায় ছিলেন ধর্মসিং চাকমা। এ সময় সশস্ত্র কয়েকজনের দল বাড়িটি ঘিরে ফেলে। টের পেয়ে ধর্মসিং পালাতে চাইলে অস্ত্রধারীরা ব্রাশফায়ার করে, এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। এ সময় ধর্মসিংয়ের বোন কৃপা সোনা চাকমা ও ভাগ্য শোভা চাকমা গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন।
এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে (পিসিজেএসএস) দায়ী করেছে ইউপিডিএফ।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহ ও তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, “ইউপিডিএফের একজন কর্মী নিহত হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তবে এর সঙ্গে জনসংহতি সমিতির জড়িত বা দায়ী থাকার প্রশ্ন আসে না।”
এর আগে, ২০১৮ সালের ১৮ মার্চ রাঙামাটি সদর উপজেলার কুতুকছড়ি থেকে ইউপিডিএফের সহযোগী সংগঠন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের দুই নেত্রী অপহরণের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হলেও পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন ধর্মসিং চাকমা। সে বার প্রাণে বাঁচতে পারলেও ৮ বছর পর গুলিতে নিহত হলেন ধর্মসিং চাকমা।
এদিকে, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম নেতা গুলিতে নিহতের পর রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ইউপিডিএফ কর্মীরা।
রাঙামাটির জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আহত দুই জনকে চট্টগ্রামে নেওয়া হয়েছে।