Published : 28 Aug 2025, 04:01 PM
ঢাকায় প্রকৌশলী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও অন্তর্বর্তী সরকারের ‘গায়েবানা জানাজা’ পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে এসব কর্মসূচি পালন করেন তারা।
বুধবার প্রকৌশলী শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকায় অবস্থান গ্রহণ করেন।
সেখানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে যেতে চাইলে পুলিশের বাধা ও হামলার মুখে পড়েন। এ সময় শিক্ষার্থীদের লাঠিচার্জের পাশাপাশি তাদের ওপর টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পুলিশ। এতে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পলাশ বখতিয়ার ও হাসিবসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গুরুত্বতর আহত হন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে দুপুরে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি বিক্ষোভ মিছিল ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে গিয়ে অবস্থান নেয়। পরে সেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের ‘গায়েবানা জানাজা’ পড়ানো হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে কেমি কৌশল ও পলিমার বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার বিন রশিদ বলেন, “চব্বিশের জুলাই-অগাস্টের মত ইন্টেরিম সরকার পুলিশকে ব্যবহার করে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। অথচ আমাদের তিন দফা ছিল ন্যায্য দাবি।

“দেশের প্রকৌশল সেক্টরগুলোতে নবম-দশম গ্রেডে ৮০-৯০% ডিপ্লোমারা দখল করে আছে। আমরা চাইনা কোনো টেকনিশিয়ান ইঞ্জিনিয়ারদের পথগুলো দখল করুক। আমরা চাই মেধা মূল্যায়নের ভিত্তিতে এসব চাকরি নিশ্চিত করা হোক। সরকারকে জুলাই-অগাস্টের কথা মনে করিয়ে দিতে চাই যে, চব্বিশের ছাত্র সমাজ ঘুমিয়ে পড়ে নাই। আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব।”
পুর ও পরিবেশ প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী হানিফ হাসান নিশান বলেন, “ডিপ্লোমারা যেভাবে দেশের সেক্টরগুলো দখল করে আসছে। ইঞ্জিনিয়ার যদি সুযোগ পেত, তারা কি দেশ ছেড়ে চলে যেত? আপনারা কি চান না আমার দেশ সিঙ্গাপুর হোক। যদি চান তাহলে মেধাবীদের যথাযথ মূল্যায়নের পরিবেশ ফিরিয়ে দিন।”
পেট্রোলিয়াম ও খনিপ্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী ইব্রাহিম বিন ইসলাম বলেন, “নৌবাহিনী, বিসিএস ক্যাডাররা কঠোর পরিশ্রম করে নবম গ্রেড পায়। অথচ ডিপ্লোমাদের এগুলোর কিছু তোয়াক্কা না করেই নবম গ্রেডে চাকরি দিয়ে দেওয়া হয়।
“ইন্টেরিম সরকার কীভাবে রিভার্স ব্রেইন ড্রেইনের মাধ্যমে মেধাবীদের দেশে ফিরাবেন, যদি সিন্ডিকেটের দখলে সব পড়ে থাকে? শেখ হাসিনা নির্বাচনকে ভয় পেত। এখন ডিপ্লোমারা পরীক্ষাকে ভয় পায়।”
এ সময় শিক্ষার্থীরা ঢাকায় প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশি হামলার প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানান।
প্রকৌশলী শিক্ষার্থীদের তিন দাবি হলো-
১. ইঞ্জিনিয়ারিং এবং নবম গ্রেড বা সহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদে প্রবেশের জন্য সবাইকে মেধা দিয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে এবং বিএসসি ডিগ্রিধারী হতে হবে। কোটার মাধ্যমে কোনো পদোন্নতি নয়, এমনকি অন্য নামে সমমান পদ তৈরি করেও পদোন্নতি দেওয়া যাবে না।
২. টেকনিক্যাল দশম গ্রেড বা উপ-সহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদ পূরণের জন্য উন্নত করতে হবে। অর্থাৎ ডিপ্লোমা ও বিএসসি উভয় ডিগ্রিধারীদেরকে পরীক্ষায় সুযোগ দিতে হবে।
৩. বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি ব্যতীত প্রকৌশলী পদবি ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
আরও পড়ুন
বিএসসি ও ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের দাবির 'যৌক্তিকতা' যাচাইয়ে কমিটি
বুয়েটে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্নাতক পর্যায়ের সব পরীক্ষা স্থগিত