নোয়াখালীতে স্ত্রী হত্যার দায়ে ১৭ বছর পর যুবকের মৃত্যুদণ্ড

ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামিদের বাঁচাতে কৌশলে ফাতেমাকে গোপনে বিয়ে করেন মঈন উদ্দিন।

নোয়াখালী প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 27 Nov 2022, 12:03 PM
Updated : 27 Nov 2022, 12:03 PM

স্ত্রীকে হত্যার দায়ে ১৭ বছর পর এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে নোয়াখালীর একটি আদালত। 

রোববার দুপুরে জেলার বিশেষ জজ আদালতের বিচারক এ এন এম মোর্শেদ খান আসামির অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানান মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এমদাদ হোসেন কৈশোর। 

দণ্ডিত মঈন উদ্দিন (৪২) বেগমগঞ্জ উপজেলার অন্ততপুর গ্রামের বাসিন্দা। 

মামলার বরাত দিয়ে আইনজীবী বলেন, বেগমগঞ্জের অনন্তপুর গ্রামের ইব্রাহিম মিয়ার মেয়ে বিবি ফাতেমা আক্তার পলি (২২) জেলা শহর মাইজদীতে একটি বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে চাকরি করতেন। ২০০৪ সালে ২৭ ডিসেম্বর বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় কিছু বখাটে তাকে মারধর ও ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় নয় জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী।  

ওই মামলার আসামিদের বাঁচাতে ২০০৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি কৌশলে ফাতেমাকে গোপনে বিয়ে করেন মঈন উদ্দিন। বিয়ের পর মাত্র একদিন স্বামীর বাড়িতে ছিলেন ফাতেমা। একই বছর ৩১ ডিসেম্বর ধর্ষণ মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে যান ফাতেমা। এ সময় মঈন উদ্দিন তাকে শহরে বাসা ভাড়া করে দেওয়ার কথা বলে অজ্ঞাত জায়গায় নিয়ে হত্যা করে।  

এদিকে মেয়ে বাড়িতে না ফেরায় ফাতেমার বাবা ইব্রাহিম মিয়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। ২ নভেম্বর অনন্তপুর গ্রামের একটি খাল থেকে ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন ইব্রাহিম মিয়া বাদী হয়ে ফাতেমার স্বামী মঈন উদ্দিনসহ ১০ জনের নামে বেগমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।  

তদন্ত শেষে মামলার ছয় আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। পরে মামলার দুই আসামি মাঈন উদ্দিন ও দেলোয়ার হোসেন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার শুনানিতে ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রায় ঘোষণা করেন বিচারক।  

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরও বলেন, রায়ে মঈন উদ্দিনকে মৃত্যুদণ্ড ছাড়াও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া অপর পাঁচ আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। 

রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বরে নিহতের ভাই জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমার বাবা মামলার বাদী ছিলেন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর এ রায় হলো; কিন্তু বাবা বেঁচে নেই। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই, উচ্চ আদালতে আপিল করবো।” 

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক