Published : 19 Mar 2026, 01:07 AM
বগুড়ার সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার কবলে পড়ার পর ঢাকা থেকে সরাসরি উত্তরের কিছু জেলায় ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
ঈদযাত্রার চূড়ান্ত মুহূর্তে বুধবার দুপুরে এ দুর্ঘটনার পর উত্তরের পথের যাত্রীরা দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়েন।
সন্ধ্যায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ‘বিকল্প পদ্ধতিতে’ ঢাকা-উত্তরাঞ্চলের পথে ট্রেন চলানোর কথা জানিয়েছিল। তারা বলেছিল, পঞ্চগড় থেকে আসা এবং ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনের যাত্রীরা দুর্ঘটনাস্থলের দুই প্রান্তে নেমে একে অপরের ট্রেনে উঠে যাত্রা সম্পন্ন করবেন।
পরে রাতে রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম ‘যাত্রীদের ট্রেন পরিবর্তন করে গন্তব্যে’ পৌঁছানোর সূচির বিষয়টি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ ব্যবস্থা চলবে।
মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সান্তাহারে নয়টি বগি লাইনচ্যুত হওয়া নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি উদ্ধারে ১২ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। এই সময়ে ওই পথের যাত্রীদের জন্য বিকল্প হিসেবে ‘ট্রান্সশিপমেন্ট পরিকল্পনা’ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
এর অংশ হিসেবে ঢাকা থেকে পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের যাত্রীরা প্রথমে বগুড়ার সান্তাহারের দুর্ঘটনাস্থল পর্যন্ত যাবেন। সেখানে পঞ্চগড় থেকে ছেড়ে আসা একতা এক্সপ্রেস থাকবে।
পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের যাত্রীরা ট্রেন পরিবর্তন করে একতা এক্সপ্রেসে উঠে গন্তব্যে পৌঁছাবেন; অপরদিকে একতার এক্সপ্রেসের যাত্রীরা একইভাবে ট্রেন পরিবর্তন করে পঞ্চগড় এক্সপ্রেসে করে গন্তব্যে পৌঁছাবেন। অর্থাৎ এ দুটো ট্রেন দিয়ে ঢাকা-পঞ্চগড়-ঢাকা ‘ট্রান্সশিপমেন্ট’ হবে।
একইভাবে দ্রুতযান এবং একতা এ দুটো ট্রেন দিয়েও ঢাকা-পঞ্চগড়-ঢাকা ‘ট্রান্সশিপমেন্ট’ হবে।
সীমান্ত এবং রূপসা এ দুটো ট্রেন দিয়ে খুলনা এবং নীলফামারীর মধ্যে ট্রান্সশিপমেন্ট হবে।
পার্বতীপুর স্পেশাল এবং বাংলাবান্ধা অথবা কাঞ্চন দিয়ে আরেকটা ঢাকা-পার্বতীপুর ট্রান্সশিপমেন্ট হবে।
তিতুমীর এক্সপ্রেস এবং বরেন্দ্র এক্সপ্রেস দিয়ে রাজশাহী এবং চিলাহাটি পথে চলাচলকারী ট্রেন দুটো দিয়ে ট্রান্সশিপমেন্ট করা হবে।
৭৯৭ নম্বর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ভায়া বগুড়া-কুড়িগ্রাম চালানো হবে।
৮০৪ নম্বর বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস আক্কেলপুর-রাজশাহী এবং ৮০৩ নম্বর বাংলাবান্ধা-রাজশাহী-পঞ্চগড় এবং বৃহস্পতিবারের ৮০৪ নম্বর বাংলাবান্ধা-পঞ্চগড়-রাজশাহীর যাত্রা বাতিল থাকবে।
ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিয়ে সকাল পৌনে ৭টায় ঢাকা থেকে নীলফামারীর চিলাহাটি যাচ্ছিল ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’। বেলা ২টার দিকে ট্রেনটি সান্তাহার স্টেশনে থামে। সেখান থেকে ট্রেনটি তিলকপুর স্টেশনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
কিছু সময় পর আদমদিঘি উপজেলার বাগমারি এলাকায় ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনের নয়টি বগি লাইন থেকে বেরিয়ে যায়।
রেলওয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এতে আহত হয় ৬৬ জন। এর মধ্যে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ২০ জন চিকিৎসাধীন। ৪০ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং ছয় জনকে বগুড়া আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় রেলের প্রধান পরিবহন কর্মকর্তার নেতৃত্বে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে৷ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন যন্ত্র প্রকৌশলী, প্রধান প্রকৌশলী ও প্রধান সংকেত প্রকৌশলী।
আরও পড়ুন:
চালক সিগন্যাল না মানায় নীলসাগর এক্সপ্রেস দুর্ঘটনা, ধারণা রেলওয়ের
নীলসাগর এক্সপ্রেস দুর্ঘটনা: 'ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে বেশি আহত হয়েছে'
নীলসাগর এক্সপ্রেস দুর্ঘটনা: ৭ ঘণ্টা পর উদ্ধার কাজ শুরু, 'সারারাত লাগবে'
নীলসাগর এক্সপ্রেস দুর্ঘটনা: সান্তাহারে ট্রেন বদলে গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা
বগুড়ায় নীলসাগর লাইনচ্যূত: তদন্তে চার সদস্যের কমিটি