Published : 05 Jun 2026, 11:53 PM
‘ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায়’ ১ হাজার ৮৬৮ শ্রমিককে ছাঁটাই করার কথা বলেছে সাভারের পোশাক প্রস্তুতকারক কোম্পানি 'আল মুসলিম গ্রুপ'।
তিনটি কারখানা থেকে ছাঁটাই হওয়া এসব শ্রমিকের ‘সব পাওনা’ পরিশোধ করা হয়েছে বলে কোম্পানির তরফে দাবি করা হয়েছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে শনিবার কোরবানির ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে সাভার এলাকায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করেছেন কেউ কেউ।
আল-মুসলিম গ্রুপের উপ মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আবু রায়হান জানান, তাদের তিনটি কারখানায় ২৭ হাজার কর্মী কাজ করেন। এরমধ্যে এক হাজার ৮৬৮ জনকে ছাঁটাই করা হয়েছে।
আবু রায়হানের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে উলাইল এলাকার একেএম নিটওয়্যার লিমিটেডের কারখানা থেকে; এক হাজার ২৮৬ জন।
এর বাইরে রেডিও কলোনি এলাকার প্যাসিফিক ব্লু জিন্স ওয়ার কারখানার ৫২৯ জন ও আশুলিয়ার আল-মুসলিম অ্যাপারেলসের ৫৩ জন কর্মী রয়েছে।
শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কায় শুক্রবার রাতে সাভারের স্থানীয় কিছু সংবাদকর্মীর সঙ্গে জরুরি মতবিনিময় সভা করেছেন কারখানার কর্মকর্তারা। সেখানে আবু রায়হানও উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, “ব্যবসায়িক মন্দা ও ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় শ্রম আইনের ২০ ধারায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
“নিয়ম অনুযায়ী শ্রমিকদের যাবতীয় পাওনা ও বকেয়া দিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইন বিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, “কারখানায় কাজ না থাকলে মালিকপক্ষ ২০ ধারায় শ্রমিকদের ছাটাই করতে পারেন। তবে পরবর্তীতে শ্রমিক নিয়োগ করলে এসব শ্রমিককে পুনর্বহাল করতে হবে।
“তবে হুট করে এতগুলো শ্রমিক ছাঁটাই করার কারণে শনিবার এই এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা রয়েছে।”
এই শ্রমিক নেতা আরো বলেন, “ঈদের ছুটির পর শনিবার প্রথম কারখানা খুলছে। তাই ছাটাই হওয়া শ্রমিকদের সঙ্গে এখনো আমাদের কোনো যোগাযোগ হয়নি। অনেক শ্রমিক জানেও না যে তারা ছাঁটাই হয়েছেন।
“শ্রমিকরা আমাদের কাছে সাহায্য চাইলে অবশ্যই আমরা পাশে দাঁড়াব।”