Published : 07 Jul 2026, 04:59 PM
কক্সবাজারে টানা বর্ষণের মধ্যে পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা থামছেই না। ২৪ ঘণ্টা না পেরেতেই পাহাড় ধসে আরও এক নারী মারা গেছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন নিহতের স্বামী।
এ নিয়ে দুই দিনে এ জেলায় পাহাড় ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ জনে।
মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলার সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভের দরিয়ানগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী।
নিহত স্ত্রী নাসিমা আক্তার ওই এলাকার জসীম উদ্দিনের স্ত্রী।

এর আগে সোমবার জেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্প, কক্সবাজার সদর ও পেকুয়ায় পাহাড় ধসে ১০ জন প্রাণ হারাণ।
ওসি মোহাম্মদ আলী বলেন, এদিন দুপুর ১টার দিকে দরিয়ানগর এলাকায় পাহাড় ধসে একটি বসতঘর চাপা পড়ে। এতে ঘরের ভেতরে থাকা জসীম উদ্দিন ও তার স্ত্রী নাসিমা আক্তার চাপা পড়েন।
পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাসিমা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন জসীম উদ্দিন।
সোমবার বিকালে পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের খলিফামুড়া এলাকায় বাড়ির পাশের পাহাড় ধসে দেয়াল ভেঙে পড়ে। এতে দেয়ালের নিচে চাপা পড়ে নিহত হয় সাত বছর বয়সি মো. মিনহাজ উদ্দিন। সে স্থানীয় বাসিন্দা কলিম উল্লাহর ছেলে।
এর আগের রাতেই সবচেয়ে বড় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে। প্রবল বর্ষণে আলাদা পাহাড় ধসে আটজন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে একই পরিবারের কয়েকজন সদস্যও ছিলেন। আহত হন আরও বেশ কয়েকজন।

কক্সবাজার আবহাওয়া কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন ধরেই কক্সবাজারে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়েছে।
সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান বলেন, পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা বসতি, ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে নির্মিত ঘর এবং ভারি বৃষ্টিপাত- এই তিনটি কারণ একসঙ্গে কাজ করায় প্রাণহানির ঘটনা বাড়ছে। বিশেষ করে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
ভারি বর্ষণ ও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলা নিয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেছেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিংসহ বিভিন্নভাবে সতর্ক করছে।
তিনি বলেন, ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় জেলার পাহাড়ি এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সেইসঙ্গে নতুন করে কোথাও পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প: বর্ষা এল মৃত্যু ভয় নিয়ে
কক্সবাজারে পাহাড়ধসের বিভীষিকা, একরাতেই প্রাণ গেল ৯ জনের
একরাতে নয়জনের প্রাণহানি: 'মৃত্যু বুকে নিয়েই ঘুমায়' সাড়ে ৩ লাখ রোহ