Published : 17 Jul 2024, 05:02 PM
কোটা সংস্কার আন্দোলনে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় গুলিতে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
বুধবার সকাল ৯টায় রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের বাবনপুর গ্রামে জাফরপাড়া মাদরাসা মাঠে সাঈদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় এলাকার শত শত শোকাহত মানুষ অংশ নেন।
পরে পারিবারিক কবরস্থানে শায়িত করা হয় আবু সাঈদকে। জানাজায় ইমামতি করেন আবু সাঈদের আত্মীয় মো. সিয়াম মিয়া।
মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা দুপুর ১টার দিকে রংপুর জেলা স্কুল মোড়ে থেকে মিছিল নিয়ে বের হয়। লালবাগ খামার মোড়ে শিক্ষার্থীদের আরেকটি মিছিল তাদের সঙ্গে যোগ দেয়।
আরও পড়ুন:
কোটা: 'ও ভাইও হামাক এনা বোন কয়া ডাকো রে', সাঈদের বোনের আহাজারি
কোটা আন্দোলন: রংপুরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে শিক্ষার্থী নিহত, আহত শতাধিক
ওই মিছিল নিয়ে তারা রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর ফটকের সামনে যান। তারা ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ বাধে। এতে আবু সাঈদসহ পুলিশ ও বেশ কয়েক শিক্ষার্থী আহত হয়।

পরে আবু সাঈদকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান চিকিৎসকেরা।
আবু সাইদ কোটা আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সমন্বয়ক ছিলেন বলে জানান সহপাঠীরা।
মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে আবু সাঈদের মরদেহ তার গ্রামে এসে পৌঁছে। তখন সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। শোক আর কান্নায় এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। আগে থেকেই সেখানে অপেক্ষমাণ ছিলেন শত শত মানুষ।
স্বজনরা জানান, নয় ভাই-বোনের মধ্যে আবু সাঈদ নিজের ইচ্ছায় লেখাপড়া চালিয়ে গেছেন। অভাবের কারণে অন্য ভাই-বোন লেখাপড়া করাতে না পারলেও সাঈদ খালাশপীর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ ৫ পান। পরে রংপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসিতে একই ফল নিয়ে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।
আরও পড়ুন:
সংঘাত-মৃত্যুর পর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা