Published : 16 Jul 2026, 09:01 AM
সবকিছু চলছিল ঠিকঠাক। অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড। এরপর, ফিরে এলো সেই চেনা চিত্রনাট্য। তালগোল পাকিয়ে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ অভিযানের সমাপ্তি হলো হারের বিষাদে ডুবে। হতাশ হ্যারি কেইন তাই খুঁজে ফিরছেন, পাজল মেলানোর শেষ টুকরোটি।
আটলান্টায় সেমি-ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে আরও একটি বিশ্বকাপে শেষ হলো ‘থ্রি লায়ন্স’দের গর্জন। ১৯৬৬ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর, তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফির অপেক্ষা বাড়ল আরও।
অথচ, মেসি-মার্তিনেসদের বিপক্ষে কী দারুণ আশা জাগানিয়া শুরুই না পেয়েছিল ইংল্যান্ড। ৫৫তম মিনিটে নিখুঁত টোকায় আর্জেন্টিনাকে স্তব্ধ করে দেন গর্ডন। ৬০ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্নও উঁকি দিতে থাকে দলটির আকাশে। কিন্তু ফের ফিরে এলো, বারবার টুর্নামেন্টের শেষ দিকে খেই হারিয়ে ধাঁধা মেলাতে না পারার অতীত।
২০১৮ বিশ্বকাপেও সেমি-ফাইনালের বাধা টপকাতে পারেনি ইংল্যান্ড; ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে এগিয়ে গিয়েও হেরেছিল তারা। আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও সেই দুঃস্মৃতি এলো ফিরে। এবারের বিশ্বকাপে অনেক ইতিবাচক মুহূর্ত থাকলেও, স্বপ্ন ভাঙার হতাশা আড়াল করলেন না ইংল্যান্ড অধিনায়ক।
“এই টুর্নামেন্টে আমাদের অনেক ভালো মুহূর্ত ছিল, অনেক ভালো ম্যাচ ছিল এবং আবারও সেমি-ফাইনাল খেললাম। (সাফল্যের) দুয়ারে কড়া নাড়ার কথা বলি আমরা, বলি, খুব কাছেই আছি; কিন্তু টুর্নামেন্টের শেষ দিকে এসে চক্র মেলাতে যে জিনিসটি লাগবে, স্রেফ সেটাই খুঁজে পাওয়া দরকার।
“এই টুর্নামেন্টগুলোতে এত বেশি চেষ্টা করতে হয়, চাপ ও মানসিক ধকল থাকে, যা আপনাকে ক্লান্ত করে দিবে। যে শেষ ছয় বা সাত সপ্তাহ ধরে আমরা একসঙ্গে আছি, আমরা একতা দেখিয়েছি, কিন্তু স্রেফ শেষ টুকরোটির কমতি ছিল।”
টুর্নামেন্ট জুড়ে নিজেদের সবটুকু ঢেলে দেওয়া সতীর্থদের জন্য খারাপ লাগছে কেইনের। দলের রেকর্ড গোলদাতা বললেন, এগিয়ে যাওয়া গোল আগলে রাখতে গিয়ে বিপদ ডেকে এনেছেন তারা নিজেরাই।
“ছেলেদের জন্য, দল, স্টাফ, সমর্থক-সবার জন্য খারাপ লাগছে। বেশিরভাগ সময় আমরা ভালো খেলেছি। যখন ১-০ গোলে এগিয়ে গেলাম এবং সেটা আগলে রাখতে চাইলাম। এই পর্যায়ের ফুটবলে এটা যথেষ্ট নয়। তাই খুব কষ্ট লাগছে। কেননা, এখানে থাকার জন্য আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছিলাম। ছেলেরা তাদের শ্রম, রক্ত, ঘাম, চোখের পানির প্রতিটি বিন্দু উজাড় করে দিয়েছে।”
সাফল্যের পথে শেষ বাধা উতরানোর চেষ্টায় অবশ্য অন্য প্রতিযোগিতায়ও বারবার ব্যর্থ হচ্ছে ইংল্যান্ড। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে গত দুই আসরেই ফাইনাল খেলেছে তারা, কিন্তু একবারও উঁচিয়ে ধরতে পারেনি ট্রফি।
২০২০ ইউরোয় ইতালির বিপক্ষে টাইব্রেকারের হারের পর, ২০২৪ আসরে স্পেনের বিপক্ষে স্বপ্ন ভাঙে দলটির।