Published : 06 Oct 2025, 10:42 AM
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা তিন দিনের ভারি বৃষ্টিতে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পর এখন কিছুটা কমে বিপৎসীমার নিচে নেমেছে।
পানি নামলেও নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে আছেন বহু মানুষ।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার জানান, রোববার রাত ১২টার দিকে তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৪৫ সেন্টিমিটার; যা বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল।
সোমবার সকাল ৬টায় তা কমে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং সকাল ৯টায় ৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড-পাউবো থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং ভারি বৃষ্টির কারণে তিস্তার পানি হু হু করে বাড়ছে। এতে পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার বিভিন্ন চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, পুকুর। রোপা আমন ক্ষেত ও বাদামসহ অনেক কৃষি জমির ফসলও চলে গেছে পানির নিচে।
বিশেষ করে পাটগ্রাম, হাতীবান্ধার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান, সিঙ্গামারি, সিন্দুর্না, হলদিবাড়ী, ডাউয়াবাড়ী; কালীগঞ্জের ভোটমারী, শৈইলমারী, কাকিনা, নোহালী; আদিতমারীর মহিষখোচা, গোবর্ধন, কালমাটি, বাহাদুরপাড়া, পলাশী এবং সদর উপজেলার ফলিমারী, খুনিয়াগাছ, কুলাঘাট, মোগলহাট, রাজপুর, বড়বাড়ী ও গোকুণ্ডা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, তিস্তার পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় তীরবর্তী মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছেন।
আদিতমারী উপজেলার গোবর্ধন গ্রামের ফারুক আহমেদ বলেন, “রোববার বিকাল পর্যন্ত তেমন পানি ছিল না, কিন্তু সন্ধ্যার পর হঠাৎ পানি বাড়তে শুরু করে। এখন পুরো ঘর পানিতে ডুবে গেছে, পরিবার নিয়ে নিরাপদ স্থানে যাচ্ছি।”
হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, “তিস্তার পানি ঘরে ঢুকে গেছে, চোখের সামনে সব কিছু ডুবে যাচ্ছে।”
হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিয়াউর হক জিয়া বলেন, উজানের ঢল ও ভারি বৃষ্টির কারণে তার ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ওইসব গ্রামের অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক নূরুল সলাম বলেন, সোমবার রাত ১২টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হলেও সকাল ৯টায় তা বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে।
তবে পাহাড়ি ঢল ও ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকলে তিস্তার আবারও পানি বাড়তে পারে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “নদীপাড়ের মানুষকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।”
তিস্তা তীরবর্তী এলাকাগুলো বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে জানিয়ে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার বলেন, প্রশাসন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিয়েছে।