Published : 25 May 2026, 04:13 PM
ঈদের ছুটিতে দেশের ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের যানজটের সৃষ্টি হয়নি।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে প্রশস্তকরণের কাজ চলায় কিছু এলাকায় যানবাহনের ধীরগতি রয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মদনপুর থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত যানবাহনের চাপ থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।
তীব্র যানজট এড়াতে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে মহাসড়কে শতাধিক পুলিশ সদস্য কাজ করছেন বলে কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি মো. শামীম শেখ জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “দীর্ঘ সরকারি ছুটি থাকায় অনেকে সুবিধাজনক সময়ে ঢাকা ছাড়ছেন। ফলে যানবাহনের চাপ বাড়লেও দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে না। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে ছোট-বড় গর্ত ছিল, যা যথাসম্ভব ‘ফিল আপ’ করায় যানজটের শঙ্কা থাকলেও তা কমে এসেছে।”
তবে কোথাও যানবাহন বিকল হলে কিংবা দুর্ঘটনা ঘটলে যানজট তৈরির শঙ্কা রয়েছে। তবে তা দ্রুততার সঙ্গে তা সমাধানের প্রস্তুতিও রয়েছে বলে ওসি শামীম জানিয়েছেন।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
সোমবার সকাল থেকেই নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড, শিমরাইল মোড় ও কাঁচপুর এলাকায় দূরপাল্লার বাস কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। দক্ষিণাঞ্চলগামী পরিবহনগুলোতে যাত্রীর চাপ তুলনামূলক বেশি ছিল।
যাত্রীদের অভিযোগ, ঈদকে কেন্দ্র করে অনেক পরিবহন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। পাশাপাশি ঢাকার বিভিন্ন বাস টার্মিনাল থেকে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে বাস ছাড়ছে।
কুমিল্লা-চাঁদপুর-হাজীগঞ্জ রুটের ‘পদ্মা পরিবহনের’ টিকিট বিক্রেতা রহমতুল্লাহ বলেন, “সকাল থেকেই যাত্রীর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি ফিরছেন অনেকে। দুপুরের পর কাউন্টারগুলোতে আরও বেশি ভিড় হবে বলে ধারণা করছি।”
চাঁদপুরগামী যাত্রী জাকির হোসেন বলছিলেন, সকাল থেকে পদ্মা পরিবহনের কাউন্টারে অপেক্ষা করছেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও বাস পাননি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আমি প্রায় এক ঘণ্টা ধরে কাউন্টারে বসে আছি, এখনও গাড়ি আসেনি। সাধারণ সময়ে যে ভাড়া ২৫০ টাকা, এখন সেটাই ৪৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই যেতে হচ্ছে।”

“ঈদের সময় মানুষ পরিবারের কাছে যেতে চায়, সেই সুযোগে কিছু পরিবহন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।”
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে পদ্মা পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা রহমতুল্লাহ বলেন, “ঈদকে কেন্দ্র করে যাত্রীচাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এ সময় অতিরিক্ত ট্রিপ পরিচালনা, স্টাফ ব্যবস্থাপনা ও যানবাহন পরিচালনায় খরচও বাড়ে। তাই ভাড়া একটু বাড়তি।”
একই ধরনের অভিযোগ করেন নোয়াখালীগামী আরেক যাত্রী মো. আল-আমিন। তিনি বলেন,“সকালে বের হওয়ায় দ্রুত বাস পেয়েছি। তবে ভাড়া আগের চেয়ে অনেক বেশি নেওয়া হচ্ছে। তারপরও মানুষ বাড়ি যাওয়ার জন্য বাধ্য হয়েই যাচ্ছে।”

সিলেট–ব্রাহ্মণবাড়িয়া রুটে এখনো চাপ কম, বিকালে বাড়ার আশঙ্কা
অন্যদিকে সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া রুটে তুলনামূলক যাত্রীচাপ কম দেখা গেছে। চিটাগাং রোডের সোহাগ পরিবহনের ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সিলেট রুটের টিকিট বিক্রেতা হৃদয় রহমান বলেন, “এখন পর্যন্ত সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া রুটে চাপ কম রয়েছে। পর্যাপ্ত গাড়ি রয়েছে।
“দুটি গাড়ি কয়েকটি সিট খালি নিয়েই ছেড়ে গেছে। তবে বিকেল ও আগামীকাল থেকে যাত্রীর চাপ অনেক বাড়তে পারে।”