সংবাদের জেরে বিএনপি নেতার হুমকি, সাংবাদিকের জিডি
মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর পৌর বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর নুরে আলম বাবুল গালিগালাজ করে এ হুমকি দেন।
সংবাদ প্রকাশের জেরে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই সাংবাদিক থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
দৈনিক ইত্তেফাকের সিঙ্গাইর উপজেলা প্রতিনিধি এবং মানিকগঞ্জ জেলা সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মানবেন্দ্র চক্রবর্তী মঙ্গলবার রাতে জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে একটি জিডি করেছেন বলে সিঙ্গাইর থানার ওসি তৌফিক আজম জানান।
মানবেন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, সোমবার ‘সিঙ্গাইরে আসামি ছাড়িয়ে নিতে থানায় ঢুকে পুলিশকে হুমকি, দুই যুবদল নেতা গ্রেপ্তার’ শিরোনামে দৈনিক ইত্তেফাকে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।
সেদিন আটক হলেন- পৌর যুবদলের সদস্যসচিব গোবিন্দল এলাকার মো. শফিকুল ইসলাম জীবন এবং একই এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের যুবদলের সদস্য শফিকুল ইসলাম।
তারা সেদিন মদ্যপ থাকা অবস্থায় থানায় যান। পরে পুলিশ তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ওয়াশ করায়।
সংবাদটি কেন প্রকাশ করা হল- তার জের ধরে সিঙ্গাইর পৌর বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর নুরে আলম বাবুল গালিগালাজ করে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন মানবেন্দ্র চক্রবর্তী।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা নূরে আলম বাবুল। তিনি বলেন, “সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। শুধু আমি জিজ্ঞাস করেছি, যুবদল নেতাদের নিয়ে এসব লেখা ঠিক হয়েছে কিনা?”
এদিকে সাংবাদিককে হুমকির নিন্দা জানিয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খান রিতা। তিনি বলেন, “থানায় মাতলামি করার কারণে ওদের দল থেকে বহিষ্কার করেছি বলেই নিউজ হয়েছে। বাবুল কেন সাংবাদিককে হুমকি দেবে?”
বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মঈনুল ইসলাম খান শান্ত বলেন, “রাজনৈতিকভাবে বিএনপি একটা বড় দল। আমরা এখনো কিন্তু ক্ষমতায় আসিনি। আমি এমপি না বলে পুরোপুরি এগুলো বন্ধ করার মত সুযোগও আমার নেই। দলের খারাপ যারা তাদের আমি পছন্দ করি না। আমি তার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলব।”
সিঙ্গাইর থানার ওসি তৌফিক আজম বলেন, “সাংবাদিককে হুমকির বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিএনপি নেতা নূরে আলম বাবুলের বিরুদ্ধে ৫ এপ্রিল থানার এসআইও একটি জিডি করেন। সেটিও তদন্ত চলছে বলেও জানান ওসি।
