Published : 01 Jul 2026, 09:41 PM
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় তিস্তা নদী তীরবর্তী পানিবন্দি ও ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষদের মধ্যে শুকনা খাবার বিতরণ করেছে প্রশাসন।
বুধবার দুপুরে রামহরি, খিতাবখাঁ, সরিষাবাড়ি ও গতিয়াসাম এলাকার ১৬০টি পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তালজিলা তাসনিম।
এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুন্নাহার সাথী, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রহমত আলী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম লাভলু, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম ব্যাপারী, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আনিছুর রহমান লিটন, প্রেস ক্লাব রাজারহাটের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস, সাধারণ সম্পাদক প্রহলাদ মণ্ডল সৈকত, ইউপি সদস্য আব্দুল বাতেন উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, চার-পাঁচ দিন ধরে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যায়। এতে নিচু এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। পাশাপাশি ফসলের ক্ষতি হয়। সেই সঙ্গে কয়েকটি এলাকায় দেখা যায় নদী ভাঙন।
এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেন। তারা শুকনো খাবার ছাড়াও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও শাক-সবজির বীজ বিতরণ করেন।
এ সময় রামহরি গ্রামের স্কুলশিক্ষক মজিবর রহমান (৫০) কর্মকর্তাদের কাছে আর্জি জানিয়ে বলেন, “রামহরি ও খিতাবখাঁ গ্রামে তিস্তা নদীর অংশে প্রায় দেড়শ মিটার অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। আমরা এখানে অর্ধশতাধিক পরিবার বসবাস করছি। যে কোনো মুহূর্তে আমাদের বাড়িঘর নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

“ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য অন্য জায়গায় কাজ হলেও, এখানে কোনো কাজ হচ্ছে না। আমরা এলাকাবাসী ত্রাণ চাই না, ভাঙন প্রতিরোধে এখানে স্থায়ীভাবে কাজ চাই।”
সরিষাবাড়ি গ্রামের কুলসুম বেগম (৫০) শুকনো খাবার পেয়ে খুশি হয়ে বলেন, “হামরা বানত এগল্যা পায়া খুব খুশি।”
রামহরি মৌজার ইউপি সদস্য আব্দুল বাতেন মিয়া বলেন, “নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। এটা স্থানীয় মানুষদের দীর্ঘদিনের দাবি। কাজটা দ্রুত শুরু করার দাবি জানাচ্ছি।”
এ ব্যাাপারে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা তাসনিম বলেন, “আমরা রামহরি ও খিতাবখাঁ এলাকায় তিস্তা নদীর অরক্ষিত অংশে ভাঙন প্রতিরোধের জন্য পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি।
“তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকা বিবেচনা করে ভাঙন কবলিত এলাকায় দ্রুত কাজ সম্প্রসারণ করা হবে। এখানে কাজ হলে মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে।”