Published : 11 May 2026, 12:35 PM
ফেনীর দাগনভূঞায় এক নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার ‘মাদকাসক্ত’ ছেলের বিরুদ্ধে। এ সময় বাধা দিতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন নিহতের স্বামী ও মেয়ে।
রোববার রাতে সিন্দুরপুর ইউনিয়নের দিলপুর গ্রামের মকবুল আহমদ হুদুর বাড়িতে এ ঘটনায় ছেলেকে আটক করা হয়েছে বলে দাগনভূঞা থানার ওসি মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমান জানিয়েছেন।
নিহত ৪২ বছর বয়সী লাকি বেগম ওই দিলপুর গ্রামের মকবুল আহমদ হুদুর বাড়ির মোহাম্মদ মোস্তফার স্ত্রী।
তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত লাকির স্বামী মোহাম্মদ মোস্তফা (৫০) ও মেয়ে মিথিলা মোস্তফাকে (১৭) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মিথিলা দাগনভূঞার রাজাপুর আলিম মাদ্রাসার এইচএসসি দ্বিতীয বর্ষের শিক্ষার্থী।
আটক ২১ বছর বয়সী মোহাম্মদ রাফিক এলাকায় ‘মাদকাসক্ত’ হিসেবে পরিচিত বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের পরিবারের বরাতে ওসি ফয়জুল আজীম বলেন, “রোববার রাতে মাদকাসক্ত রফিক হঠাৎ বাড়িতে ঢুকে মাদক সেবনের জন্য মায়ের কাছে টাকা দাবি করে। মা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে মায়ের ওপর হামলা চালায়। এতে একাধিক ছুরিকাঘাতে ঘটনাস্থলেই মা লাকি বেগম অচেতন হয়ে পড়েন।”
“একপর্যায়ে রফিক বোন মিথিলাকে ছুরিকাঘাত করলে মেয়েকে বাঁচাতে বাবা মোস্তফা ছুটে আসেন। থবণ রফিক বাবাকেও ছুরিকাঘাত করে। পরে বাড়ির অন্য সদস্যদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে রফিককে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। এরপর স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে প্রথমমে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক (ইএমও) শাহরিয়ার কবির বলেন, “হাসপাতালে আনার আগেই লাকি বেগমের মৃত্যু হয়েছে।”
তিনি বলেন, “আহত মোস্তফা ও মিথিলার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় জরুরি চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
ওসি ফয়জুল আজীম নোমান বলেন, “হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যেয়ে হামলায় জড়িত বখাটে মাদকাসক্ত রফিককে আটক করা হয়েছে।
“প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক রফিক পুলিশের কাছে বলেছেন, অনলাইন থেকে অর্ডার দিয়ে তিনি দুটি ছুরিটি কিনেছেন। হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি দুটি জব্দ করেছে পুলিশ।”
তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ক্ষোভের জেরেই রফিক তার মা, বাবা ও বোনকে ছুরিকাঘাত করেছে। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা চলমান রয়েছে৷