Published : 28 Feb 2023, 11:48 AM
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন ছাত্রলীগ নেতাসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুই ছাত্রীকে প্রাণনাশের হুমকি ও তাদের বন্ধুদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটের পাশে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী যমজ দুই বোন।
এ ঘটনায় অভিযোগের মুখে রয়েছেন-বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের উপ-ক্রীড়া সম্পাদক রাব্বিউল ইসলাম, শহীদ সোহারাওয়ার্দী হলের সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান, জিয়াউর রহমান হলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ফরহাদ হাসান।
অভিযোগে বলা হয়, গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তারা দুই বোন ও চার বন্ধু ক্যাম্পাসের পরিবহন মার্কেটের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় এক বোন রাস্তায় পড়ে থাকা একটি নুড়ি পাথরে লাথি মারেন। সেই পাথর সামনে থেকে আসা কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাদের একজনের পায়ে লাগে। পরে ওই ছাত্রী সঙ্গে সঙ্গেই তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।
এ সময় ছাত্রলীগ নেতাদের একজন বলেন, টুইন না হলে মার্ডার করে ফেলতাম। এমনকি তারা বাজে ভাষায় কথা বলতে থাকে। দুই বোনের সঙ্গে থাকা বাকিরা প্রতিবাদ করলে তাদের গায়েও হাত তোলা হয়। পরে ছাত্রলীগ নেতারা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের উপ-ক্রীড়া সম্পাদক রাব্বিউল ইসলামকে ডেকে আনেন। তার নেতৃত্বেই আরও ১৪-১৫ জন ওই দুই ছাত্রীর চার বন্ধুকে মারধর করেন।
এক পর্যায়ে সোহারাওয়ার্দী হলের সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান ইট দিয়ে মারতে আসেন। এ সময় নাজমুস সাকিব ও রাকিবুল্লাহ রাকিব নামে শিক্ষার্থীদের দুই বন্ধু আহত হন। পরে সাকিবকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। ঘটনার পরে সেখানে সহকারী প্রক্টর জাকির হোসাইন উপস্থিত হন।
যার মারা নুড়ি পাথর লেগেছিল সেই শিক্ষার্থী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সেদিন রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় অনিচ্ছাকৃত পাথরটি তাদের পায়ে লেগে থাকতে পারে। এজন্য আমি ক্ষমাও চেয়েছিলাম। কিন্তু তারপরও হত্যার হুমকি দেয় আমাকে। আমার বন্ধুরা প্রতিবাদ করলে মারধরও করা হয়। আমরা ভীষণ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এজন্য প্রক্টর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রলীগ নেতা ফিরোজ আহমেদ বলেন, “সেদিন আহামরি কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরা আসতেছিলাম আর ওরা যাচ্ছিল। ওরা একজন ভাঙা ইটের টুকরোতে লাথি মেরেছিল, সেটা এসে আমার পায়ে লাগে। পায়ের একটা অংশ ছিলে যায়। তখন আমি শুধু বলেছিলাম, যে মেয়ে না হলে দেখতাম।”
“ওই দিন প্রক্টর দপ্তরে বসার পর দুই পক্ষ থেকে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছিল। পরে এই বলে সমাধান হয় যে, কেউ কোনো অভিযোগ দেবে না। কিন্তু ওই দুই ছাত্রী পরে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে।”
এ বিষয়ে তারাও প্রক্টর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেবেন বলে জানান এ ছাত্রলীগ নেতা।
অভিযোগের বিষয়ে রাব্বিউল ইসলাম ও মেহেদী হাসানের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক বলেন, “এ বিষয়ে আমি দুই পক্ষকেই লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছিলাম। ওই দুই ছাত্রীর অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুতই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”