Published : 07 Jan 2026, 07:24 PM
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-শাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উন্মুক্ত বোর্ডে নিজেদের দাবি-দাওয়া ও মতামত লিখে জানাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
‘শাকসুতে আপনার চাওয়া’ শিরোনামে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে রাস্তার পাশে এ উন্মুক্ত বোর্ড স্থাপন করেছে ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেলের প্রার্থীরা। ৪ জানুয়ারি বোর্ডটি স্থাপন করা হয়।
সরজমিনে দেখা যায়, শিক্ষা ও শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গঠনের লক্ষ্যে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মার্কার কলমে নিজেদের মতামত, দাবি-দাওয়া ও আশা-প্রত্যাশার কথা লিখছেন। পাশাপাশি তারা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যাও তুলে ধরছেন।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- ক্যাম্পাসে সনাতনী শিক্ষার্থীদের জন্য মন্দির স্থাপনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, মেয়েদের জন্য ল্যাব ব্যবহারে আরও সহজসাধ্য ব্যবস্থা, শাকসুতে বিজয়ী প্রার্থীদের তত্ত্বাবধানে শুধুমাত্র ভেরিফায়েড শিক্ষার্থীদের নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপ চালু, প্রতিটি বিভাগের ওয়াশরুম পরিচ্ছন্ন রাখা, বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি, ক্যাফেটেরিয়ায় কম দামে মানসম্মত খাবার, সেমিস্টার ও ক্রেডিট ফি কমানো, আবাসিক হলে আসন সংকট নিরসন, সব ক্লাসরুমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা এবং ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত খাবারের দোকান স্থাপন।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন সহজ করা, জার্নাল অ্যাক্সেস বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত বসার স্থান, ইনডোর স্পোর্টস জোন স্থাপন, সামাদ হল (ছাত্রী হল)-এর পানিতে আয়রনের মাত্রা কমানো এবং কিলো রোডের আশপাশে মেয়েদের জন্য ওয়াশরুম স্থাপনের দাবিও জানান।

তবে এর পাশাপাশি কেউ কেউ মজা করেও গণবিবাহের আয়োজন, পরীক্ষায় বেশি নম্বর দেওয়া, শাকসু নির্বাচনের পর বড় পরিসরে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজনের কথাও লিখেছেন।
মতামত লিখতে আসা বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান বলেন, “শিক্ষার্থীদের মতামত জানানোর ক্ষেত্রে এই বোর্ডটি খুবই কার্যকর। অনেক সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা সরাসরি প্রার্থীদের কাছে নিজেদের প্রত্যাশা জানাতে পারেন না। এই বোর্ডের মাধ্যমে তারা সহজেই তাদের মতামত জানাতে পারছেন। এতে প্রার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থী উভয়েই অধিকাংশ শিক্ষার্থীর চাওয়া-পাওয়া সম্পর্কে জানতে পারছেন।”
বোর্ড স্থাপনের বিষয়ে ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী মুঁহয়ী শারদ বলেন, “সব শিক্ষার্থীর মতামত জানার উদ্দেশেই আমরা এই কার্যক্রম পরিচালনা করছি। দিনব্যাপী শিক্ষার্থীরা এখানে নিজেদের দাবি তুলে ধরছেন। এর মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের প্রকৃত ও প্রাণের দাবিগুলো জানতে পারছি। বোর্ডে উঠে আসা এসব মতামতই আমাদের ইশতেহার হবে।”
তিনি বলেন, “বোর্ডে লেখা পূর্ণ হয়ে গেলে আমরা সেগুলো নোট করে মুছে দিচ্ছি, যাতে নতুন করে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের দাবিগুলো লিখে জানাতে পারেন।”