Published : 13 Jul 2026, 01:29 PM
টানা বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে নেত্রকোণার উপদাখালি, ধনু ও মগড়া নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তবে কংশ ও সোমেশ্বরী নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, রোববার সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত উপদাখালি নদীর পানি প্রতি তিন ঘণ্টায় এক সেন্টিমিটার করে বেড়েছে। বর্তমানে নদীটির পানি বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, এর আগে রোববার সন্ধ্যায় উপদাখালি নদীর পানি বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এছাড়া ধনু, মগড়ার পানি বাড়লেও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কংশ ও সোমেশ্বরী নদীর পানিও কমে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম বলছেন, “বৃষ্টি আর উজানের পাহাড়ি ঢলের পানি মিলে উপদাখালি নদীর পানি বাড়ছে। তবে এখন নাগাদ লোকালয়ে পানি ঢোকেনি।”

সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।”
এদিকে সোমবার সকাল ৮টা নাগাদ গত ২৪ ঘণ্টায় নেত্রকোণা জেলায় ১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন।
টানা বৃষ্টির কারণে আমনের বীজতলা তৈরিতে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, অনবরত বৃষ্টির ফলে বীজতলায় পানি জমে থাকায় কৃষকেরা সময়মতো আমনের বীজধান বপন করতে পারছেন না।
তিনি বলেন, “জেলায় ১ লাখ ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রার জন্যে ৬ হাজার ৭৩৫ হেক্টর বীজতলা প্রস্তুত করছেন কৃষকেরা। এ নাগাদ ৩ হাজার ৪৪৬ হেক্টর বীজতলায় বপন করা হলেও বাকি জমিতে বৃষ্টির জন্যে বীজ বপন করা যাচ্ছেনা।”