Published : 10 Jul 2024, 02:08 PM
সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
এ সময় নির্বাহী বিভাগ থেকে আদেশ জারি করে কোটা সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
শিক্ষার্থীরা বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবন সংলগ্ন প্যারিস রোডে মানববন্ধন করেন। পরে মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন তারা।

এ সময় ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ জানযট তৈরি হয় এবং নগরীর সঙ্গে অন্য জেলার সড়ক যোগাযোগ অনেকাংশে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা জারির বিষয়ে কোটা বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সদস্য আমানউল্লাহ আমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিচার বিভাগ তাদের আইনগত সিদ্ধান্ত বা ব্যাখ্যা জানিয়েছে। তাদের কাছ থেকে আমাদের প্রত্যাশা নেই৷ আমরা চাই নির্বাহী বিভাগ থেকে নতুন পরিপত্র জারির মাধ্যমে আমাদের সার্বিক দাবিগুলো পূরণ করে, কোটা পদ্ধতির সংস্কার হোক।”
তিনি বলেন, “হঠাৎ করে একটা স্থগিতাদেশ দিয়ে আমাদের আন্দোলনটিকে স্তিমিত করা যাবে না। আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।”

বিক্ষোভ কর্মসূচি চলার সময় শিক্ষার্থীরা, ‘কোটা না মেধা, কোটা কোটা’, ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্র সমাজ জেগেছে’, ‘১৮-এর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘মেধাভিত্তিক নিয়োগ চাই, প্রতিবন্ধী ছাড়া কোটা নাই’, ‘মেধাবীদের কান্না, আর না আর না, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সাত শতাধিক শিক্ষার্থী এ অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ সময় কোটাপদ্ধতির সংস্কার চেয়ে এক দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
শিক্ষার্থীদের দাবি, সরকারি চাকরির সকল গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল এবং অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য ন্যায্যতার ভিত্তিতে ন্যূনতম কোটা রেখে সংসদে আইন পাস করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, “সংবিধানের ২৮ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা আছে, পিছিয়ে পড়া কিংবা অনগ্রসরদের জন্য বিশেষ সুবিধার কথা। কিন্তু সেখানে একবারও মুক্তিযোদ্ধাদের কথা বলা হয়নি। তাদের অনগ্রসর হিসেবে বিবেচিত করে বরং আরও তাদের ছোটো করা হচ্ছে।"
“তাছাড়া যে প্রেক্ষাপটে মুক্তিযোদ্ধাদের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল সেটা অর্ন্তবর্তীকালীন বা অস্থায়ীভাবে। তবে আজ সেটা স্থায়ী হয়ে, আমাদের বৈষম্যের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা এই পদ্ধতির দ্রুতই সংস্কার দাবি করছি, অবশ্যই বাতিল নয়।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী ফুয়াদ রাতুল বলেন, “যে দেশে সরকারি চাকরিতে ১০০ জনের মধ্যে ৫৬ জনই কোটায় সুযোগ পায় সেখানে কোনোভাবেই মেধার মূল্যায়ন হতে পারে না। ফলে মেধাহীন জাতি তৈরি হচ্ছে এবং সবাই দেশবিমুখ হচ্ছে।”
“আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার চাই, মেধার চর্চা করতে চাই। দ্রুতই এই বৈষম্যমূলক কোটার সংস্কার করা হোক।" যোগ করেন তিনি।
সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটার বিরোধিতায় আন্দোলনের মধ্যে সব পক্ষকে চার সপ্তাহ স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

কিছু পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা দিয়ে সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, কোটা নিয়ে এখন কোনো কথা বলা যাবে না। হাই কোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে আপিল বিভাগ আবার বিষয়টি শুনবে। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ৭ অগাষ্ট।
পৃথক দুটি আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ বুধবার স্থিতাবস্থা জারির এ আদেশ দেয়।