Published : 10 May 2026, 12:12 PM
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকার একটি বাসায় গ্যাস লিক থেকে বিস্ফোরণে ৩ শিশু সন্তানসহ দম্পতি দগ্ধ হয়েছেন।
রোববার সকাল ৭টার দিকে ফতুল্লার গিরিধারা এলাকার একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহাবুব আলম জানান।
তিনি বলেন, “খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে টিম পাঠিয়েছি, এখনো বিস্তারিত কিছু জানা নেই।”

এ ঘটনায় দগ্ধ পাঁচ জনকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়েছে। তাদের সবার অবস্থাই ‘আশঙ্কাজনক’ বলে জানিয়েছেন ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক শাওন বিন রহমান।
দগ্ধরা হলেন- মো. কালাম (৩৫), তার স্ত্রী সায়মা (৩২), ছেলে মুন্না (৭) এবং দুই মেয়ে কথা (৭) ও মুন্নি (১০)।
ডা. শাওন জানান, কালামের ত্বকে পোড়ার মাত্রা ৯৫ শতাংশ। আর তার স্ত্রী সায়মার শরীরের ৬০ শতাংশ, মুন্নার ৩০, কথার ৫২ ও মুন্নির ৩৫ শতাংশ পুড়েছে।

তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রতিবেশী হাসান জানিয়েছেন, কালাম পেশায় সবজি বিক্রেতা। তিনি স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ওই বাসায় থাকতেন।
হাসানের ভাষ্য, সকাল ৭টার দিকে হঠাৎ ওই বাসায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গিয়ে দেখেন ঘরের ভেতর আগুন জ্বলছে। তখন ভেতর থেকে সবাইকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরিফিন বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফ্ল্যাটের পশ্চিম পাশের রুমের সঙ্গে থাকা রান্নাঘরে গ্যাস লাইনে লিকেজ ছিল। এতে বন্ধ কক্ষে গ্যাস জমে যায়। পরে ভাড়াটিয়া সিগারেটের লাইটার জ্বালানোর চেষ্টা করলে মুহুর্তেই বিস্ফোরণ ঘটে।”
আহতদের বরাতে তাদের হাসপাতালে নেওয়া প্রতিবেশী রাকিব বলেন, “ভোরে সবাই যখন ঘুমে ছিলেন তখন কালাম উঠে রান্নাঘরে যান। চুলা জ্বালানোর জন্য আগুন ধরালেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয় এবং মুহুর্তেই আগুন চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে।”
এদিকে আহতদের দেখতে বার্ন ইনস্টিটিউটে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আসার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আবাসিক সার্জন শাওন।