সেখানে জেনারেশন নেক্সট নামে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের চার মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। তিন দিন ধরে শ্রমিকরা টানা আন্দোলন করছেন।
Published : 23 Oct 2024, 06:54 PM
চার মাসের বকেয়া বেতন ও কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে অসন্তোষের মধ্যে সাভারের আশুলিয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় চার শ্রমিক আহত হয়েছেন; যাদের মধ্যে ‘গুলিবিদ্ধ’ দুইজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার বেলা ১১টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর-কাশিমপুর সড়কের বাংলাবাজার এলাকায় জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মো. সারোয়ার আলম জানান। তবে গুলিবর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি তার।
এ কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে টানা তিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন।
আহত শ্রমিকরা হচ্ছেন- জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন লিমিটেডের প্রিটিং অপারেটর মোর্শেদা বেগম (৩৫), সুইং অপারেটর মোছা. চম্পা খাতুন (২২), শ্রমিক ববিতা আক্তার ও সুসুকা গার্মেন্টেসের শ্রমিক হালিমা খাতুন।
এদের মধ্যে চম্পা খাতুন ও মোর্শেদা বেগমকে গুরুতর অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন আশুলিয়ার জামগড়ার নারী ও শিশু হাসপাতালের সহকারী ব্যবস্থাপক এইচ এম আসাফ উদ্দৌলা রিজভী।
তিনি বলেন, “এদের মধ্যে চম্পার তলপেটে এবং মোর্শেদার পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বাকি দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”
তারা কীভাবে আহত হয়েছেন জানতে চাইলে নারী ও শিশু হাসপাতালের সহকারী ব্যবস্থাপক বলেন, “চম্পা খাতুন ও মোর্শেদা বেগম বলেছেন, তারা গুলিতে আহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে আমরা তা নিশ্চিত হতে পারিনি।”
বিকালে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক। তিনি বলেন, তাদের ভর্তি করা হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির রেজিস্ট্রার অনুযায়ী, মোর্শেদা খাতুন রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার তুলারাম মজিদপুর গ্রামের মোজাম্মেল হকের মেয়ে। মোর্শেদার স্বামীর নাম আশরাফুল আলম। তারা নরসিংহপুর এলাকায় ভাড়া থাকেন।
অপরদিকে চম্পা খাতুন একই উপজেলার আহম্মদপুর গ্রামের চান্দু মিয়ার মেয়ে। তার স্বামীর নাম মো. মিঠু। তারাও নরসিংহপুর এলাকায় থাকেন।
মোর্শেদা বেগমের স্বামী আশরাফুল ঢাকা মেডিকেলে সাংবাদিকদের বলেন, “চার মাস ধরে কর্মচারীদের বেতন বন্ধ রাখার প্রতিবাদে বুধবার বেলা ১১টার দিকে সব শ্রমিক-কর্মচারী আন্দোলন করে।
“আন্দোলনে পুলিশের শর্টগানের গুলিতে এরা দুজন আহত হয়। পরে সেখান থেকে তাদেরকে প্রথমে আশুলিয়ার জামগড়ার স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে বিকালে চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।”
হাসপাতালের রেজিস্ট্রারের তথ্য অনুযায়ী, মোর্শেদা বেগমের ডান হাতে ও পেটের ডান পাশে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। চম্পা খাতুনের (২২) বুকে ও বাম হাতে গুলি লেগেছে।
তবে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে গুলি বর্ষণের অভিযোগ উঠলেও আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মো. সারোয়ার আলম তা অস্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, “শ্রমিকরা যখন পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে, তখন সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। তবে গুলির কোনো ঘটনা ঘটেনি। আহতরা অন্য কোনোভাবে আঘাত পেতে পারেন।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, জেনারেশন নেক্সট পোশাক কারখানার শ্রমিকদের চার মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। তিন দিন ধরে তারা টানা আন্দোলন করছেন।
বুধবার সকালে তৃতীয় দিনের মত শ্রমিকরা কারখানাটির সামনে একত্রিত হন। পরে পাশের সিগমা অ্যাপারেলস, ডি-সান, সুসুকা, জি-ম্যাক্স ও শিন শিন পোশাক কারখানায় ইট-পাটকেল ছুড়ে শ্রমিকদের বের করে তাদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানায়।
এসময় তারা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বাধা দেয়। এতে শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকেন।
পরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করলে বেশ কয়েকজন আহত হয়।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইন বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন মিন্টু বলেন, “দুইজন শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এমন খবর ছড়িয়েছে। তবে এটি এখনও আমরা নিশ্চিত না। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
“তবে আতঙ্কে কেউ মুখ খুলতে চাচ্ছেন না। আমাদের কাছেও এখন কিছু বলছে না। কেন শ্রমিকরা কিছু বলছে না তা বুঝতে পারছি না।”
আরও পড়ুন
বেতন না দিয়ে কারখানা বন্ধ, আশুলিয়ায় দুদিনের বিক্ষোভে ভোগান্তি চরম