টানা অবরোধের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে নবীনগর-বাইপাইল এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়কেও।
Published : 22 Oct 2024, 06:45 PM
চার মাসের বকেয়া বেতন ও বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার বাইপাইলে মহাসড়ক অবরোধ করে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা টানা দুদিন ধরে বিক্ষোভ করায় ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়ে ভোগান্তি চরমে র্পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে দ্বিতীয় দিনের মত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাইপাইলে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা।
শ্রমিকরা মূলত সোমবার সকাল ১০টা থেকেই সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নামেন। এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা সড়কে ছিলেন।
টানা অবরোধের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে নবীনগর-বাইপাইল এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়কেও।
অবরোধের মুখে মহাসড়কে আটকে পড়ে প্রচুর যানবাহন। উভয় পাশে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজটের। চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ অফিসগামী যাত্রীরা।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মো. সারোয়ার আলম বলেন, “যখন তখন সড়ক অবরোধ করে দাবি আদায়ের হাতিয়ারকে কার্যকর করার প্রবণতা শিল্পাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ক্রমশ নাজুক করে তুলেছে।”
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানান, তারা চার মাস ধরে বেতন-বোনাস পাচ্ছেন না। বেতন না দিয়ে কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে রেখেছে কর্তৃপক্ষ। এই নিয়ে কয়েকবার মালিকপক্ষের সঙ্গে শ্রমিক প্রতিনিধিদের কথা হয়েছে। বার বার আশ্বাস দিলেও তারা বেতন পরিশোধ করেনি।
তারা বলেন, তিন মাস অতিবাহিত হলেও অধিকাংশ শ্রমিক বেতন-বোনাস পায়নি। কারখানার স্টাফদের বেতন বকেয়া আছে চার থেকে পাঁচ মাসের। এরপর বিজিএমইএ ও শ্রম মন্ত্রণালয়ে গেলে বেতন পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে এখন পর্যন্ত কারখানা খুলে দেয়নি, বেতন ও বোনাস পরিশোধ করেনি মালিকপক্ষ।
একজন শ্রমিক বলেন, “চার মাস ধরে বেতন না পেয়ে পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে। বাসা ভাড়া ও দোকান বাকি থাকায় অনেকটাই না খেয়ে দিন পার করছি। অন্য কোথাও চাকরি নিতেও পারছি না।
“বকেয়া পরিশোধ না করেই গত মাসে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে নোটিশ ঝুলিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। বিজিএমইএ ও শ্রম মন্ত্রণালয় কারখানা খুলে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও কার্য্যকর হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে মহাসড়কে এসেছি। বেতন না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের অবস্থান কর্মসূচি চলতে থাকবে।”
আশুলিয়া থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “শ্রমিকরা সকাল থেকে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেছেন। আমরা তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি।”
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইন বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন মিন্টু বলেন, “জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন কারখানাটি ভারতীয় ও বাংলাদেশি নাগরিক মিলে সাতজন মালিক। কারখানাটিতে প্রায় চার হাজার শ্রমিক রয়েছে। শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের জন্য বিজিএমইএর সঙ্গে দফায় দফায় মিটিং করেও কোনো সুরাহা হয়নি।
“এই মালিকদের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ঠিকই চলছে শুধু এই কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া দিচ্ছে না।”
শ্রমিকদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আশুলিয়ার ইয়ারপুরে অবস্থিত জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার শীর্ষ কর্মকর্তাদের একটি অংশ ভারতে চলে যান। এরপর আর্থিক সংকট ও রপ্তানি আদেশ কমতে থাকায় সংকটে পড়ে কারখানাটি। অনিয়মিত হয়ে পড়ে বেতন-ভাতা। পরে ১৪ সেপ্টেম্বর কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করে নোটিশ লাগিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মো. সারোয়ার আলম বলেন, “কারখানার কয়েকজন উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হচ্ছে। আশা করছি, দ্রুতই সমাধান হয়ে যাবে।”