সড়কে ‘লাঠি হাতে পরিবহনে চাঁদাবাজি’, ময়মনসিংহে আটক ৫০

প্রতিমাসে এ নগরীর পরিবহন সেক্টর থেকে কয়েক কোটি টাকা চাঁদাবাজি হয়ে থাকে বলে দাবি র‌্যাবের।

ময়মনসিংহ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 7 Feb 2024, 01:52 PM
Updated : 7 Feb 2024, 01:52 PM

লাঠি হাতে পরিবহন থামিয়ে ময়মনসিংহে সড়কে চাঁদাবাজির অভিযোগে ৫০ জনকে আটক করেছে র‌্যাব। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির অন্যতম কারণ হিসেবে এ চাঁদাবাজিকে দায়ী করেছে সংস্থাটি।

বুধবার নগরীর বিভিন্ন সড়কে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় বলে জানান র‌্যাব-১৪ এর অধিনায়ক মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে আটকদের নাম-পরিচয় জানায়নি র‌্যাব।

তিনি বলেন, সম্প্রতি সড়ক ও মহাসড়কে চাঁদাবাজি বেড়ে গেছে। এ ছাড়া পরিবহনে চাঁদাবাজি নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নগরীর রহমতপুর বাইপাস মোড়, পাটগুদাম ব্রিজ মোড়, শম্ভুগঞ্জ, মুক্তাগাছা এবং তারাকান্দার কাশিগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালায় র‌্যাব।

বুধবার সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত পাঁচটি স্পট থেকে ৫০ জনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে চাঁদা তোলার রসিদ বই, ৬৫ হাজার টাকা ও লাঠি জব্দ করা হয়।

পরিবহনে চাঁদাবাজির কারণে দ্রব্যমূল্য বেড়েছে জানিয়ে র‌্যাবের মহিবুল বলেন, “সাধারণ মানুষ তাদের কারণে হয়রানির শিকার হচ্ছে। তারা নামে-বেনামে চাঁদা তুলে কাকে দিচ্ছেন এবং কাদের ইশারায় এসব হচ্ছে তা জিজ্ঞাসাবাদে বের করা হবে।”

আটকদের বিরুদ্ধে পরিবহন চালকরা বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

নগরীর টাউন হল মোড়ের অটোরিকশা স্ট্যান্ডে কথা হয় অটোচালক রাসেল হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, “শুধু চাঁদা উত্তোলনকারীদের ধরলে হবে না। এর পেছনে কারা আছেন, তাদের ধরে আইনের আওতায় আনতে হবে। টাউন হল থেকে জামালপুর যেতে তাদের প্রায় ১০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়।

“এছাড়া স্ট্যান্ডে জিবি দিতে হয় ১৪০ টাকা। এমন অবস্থায় আমরা অতিষ্ঠ। র‌্যাব একটি ভালো কাজ করেছে। অনেক সময় চাঁদা না দিলে মারধরেরও শিকার হতে হয়। আমরা এর সুরাহা চাই।”

র‌্যাব জানায়, প্রতিমাসে ময়মনসিংহের পরিবহন সেক্টর থেকে কয়েক কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয়। আর চাঁদা দেওয়ার সুযোগ নিয়ে চালকরা আইন অমান্য করে সড়ক ও মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালান। এতে প্রায় ঘটছে দুর্ঘটনা।

বিভাগীয় এ শহরের বিভিন্ন সড়কে প্রায় ২০ হাজার বাস, ট্রাক, অটোরিকশা ও মাহেন্দ্র চলাচল করে। এসব পরিবহন থেকে নামে-বেনামে বিভিন্ন সংগঠনের লোকজন টোকেনের মাধ্যমে লাঠি হাতে সড়কে দাঁড়িয়ে চাঁদা উত্তোলন করেন, এমন অভিযোগ পেয়ে অভিযান চালায় র‌্যাব।