Published : 01 Jul 2025, 02:24 PM
ময়মনসিংহে প্রাক্তন স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার ভোরে নগরীর গুলকীবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান।
মৃত রওশন আক্তার ময়মনসিংহ নগরীর সেনবাড়ি এলাকার ওমান প্রবাসী রাকিবুল করিমের স্ত্রী। তার বাবার বাড়ি নেত্রকোণা সদরের রাজুর বাজার এলাকায়।
রওশন (৪২) ও রাকিবুলের (৫০) লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, রাকিবুল ও রওশন দম্পতির দুই মেয়ে সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে ঢাকায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে ও ছোট মেয়ে ময়মনসিংহ নগরীর ক্যান্টনমেন্ট কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ে। গুলকীবাড়ি এলাকায় একটি বাসায় ছোট মেয়ে রোজা আক্তারকে নিয়ে সাবলেটে ভাড়া থাকতেন রওশন। পারিবারিক কলহের জেরে রাকিবুল তিন মাস আগে তাকে তালাক দেন।
মঙ্গলবার ভোরে রওশন যে বাসায় ভাড়া থাকেন, সে বাসায় ঢুকে তাকে ছুরিকাঘাত শুরু করেন রাকিবুল। মাকে ছুরিকাঘাত করতে দেখে রোজা ভয় পেয়ে অন্য একটি ঘরে আশ্রয় নেয়। রওশনকে হত্যার পর রাকিবুল নিজেও বাসার আরেকটি ঘরের ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে দুজনের লাশ উদ্ধার করে।
রওশনের ভাতিজা ইকবাল হোসেন শাওন বলেন, “পারিবারিক কলহের জেরে দুজনের ডিভোর্স হয়েছিল। কিন্তু সকালে ভাড়া বাসায় ঢুকে রওশনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন রাকিবুল। পরে মেয়েকে বেঁধে রেখে অন্য একটি রুমে গিয়ে দরজা লাগিয়ে নিজেও আত্মহত্যা করেন। খবর পেয়ে নেত্রকোণা থেকে ছুটে এসে লাশ দেখতে পাই।”
বাড়িটির দায়িত্বে থাকা রকিবুল ইসলাম লিটন বলেন, “রওশন ও তার মেয়েরা ১০-১২ বছর আগে বাসা ভাড়া নিয়ে এখানে বসবাস করে আসছিল। বড় মেয়ে ঢাকায় থাকত। কিন্তু হঠাৎ এমন ঘটনা ঘটবে ভাবতে পারিনি।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “গত ২৪ জুন ওমান থেকে দেশে আসেন রাকিবুল করিম। প্রায় তিনমাস আগে স্ত্রীর সঙ্গে তার তালাক হয়। সকালে বাসায় ঢুকে প্রথমে স্ত্রীকে হত্যা করেন। তারপর নিজের জমিজমার দলিলপত্র মেয়েকে বুঝিয়ে দিয়ে নিজেও আত্মহত্যা করেন।”
এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোন কারণ রয়েছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।