Published : 05 Nov 2025, 11:47 PM
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় স্থানীয় তিনজন সংবাদকর্মীকে ‘মারধর’ করার পর পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন কৃষক দলের এক নেতা।
বুধবার বিকালে গিরিধারা বউবাজার এলাকায় এক নারীর ‘জমি দখল’ করে রাখার অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে গেলে এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি মারধরের শিকার সংবাদকর্মীদের।
তাদের অভিযোগ, দুই প্রতিবেদক ও একজন ক্যামেরাপারসনের ওপর জেলা কৃষক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন এ হামলা চালান। পরে তাদের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়।
ফতুল্লা থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সংবাদকর্মীদের উদ্ধার করেন এবং কৃষক দল নেতা শাহাদাতকে আটক করে রাখায় নিয়ে আসে।
মারধরের শিকার তিন সংবাদকর্মী হলেন - জাগো নিউজের সিদ্ধিরগঞ্জ থানা প্রতিনিধি মো. আকাশ (২৭), স্টার নিউজের ক্যামেরাপারসন আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৭) ও স্থানীয় নিউজ পোর্টাল নিউজ নারায়ণগঞ্জের প্রতিবেদক আয়াজ রেজা (৩৩)।
তারা নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যার হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
আহতদের মধ্যে সাংবাদিক মো. আকাশের অভিযোগ, গিরিধারা এলাকায় এক নারীর জমি দখলের অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে গেলে কৃষক দল নেতা শাহাদাত হোসেন তাদের উপর হামলা করেন। তাদের বাধা উপেক্ষা করে একের পর চড়-থাপ্পড় দিতে থাকেন।
তাদের একটি কক্ষে আটকে রেখে ক্যামেরা ও মোবাইল ফোনও ভাঙচুর করা হয় দাবি করে তিনি বলেন, “পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।”
জেলা কৃষক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাদাতের ছেলে মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি আতা-ই-রাব্বি এ ঘটনাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ মন্তব্য করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
প্রতিবেশী একটি পরিবারের তাদের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধ থাকার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, “ওই জমি সংক্রান্ত বিষয়ে কয়েকজন সাংবাদিক আম্মাকে ভিডিও করতেছিলেন। আব্বা তখন ভিডিও না করে আগে কথা বলার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু সাংবাদিকরা কথা বলার সুযোগ না দিয়েই ভিডিও করতে শুরু করে দেন। তখন আব্বা রাগের বশে এমনটা করেন। কারণ আমাদের পূর্বের অভিজ্ঞতাতো খারাপ। অনেক সাংবাদিক আওয়ামী লীগের লোকজনের টাকা খেয়ে আমাদের বিরুদ্ধে অসত্য কথা লিখত।
“আমি ঘটনার সময় ছিলাম না। শুনেছি অনেক পরে। আমি থাকলে এই রকম ঘটনা ঘটার সুযোগ ছিল না; যা ঘটছে তার জন্য আমি এবং আব্বা দুʼজনই লজ্জিত “
ওসি বলেছেন, তিন সংবাদকর্মীকে মারধরের ঘটনায় আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।